ঘরে মাস্ক তৈরি করবেন যেভাবে (ভিডিও)

প্রকাশ: ২০২০-০৩-১১ ১২:০১:৪১ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বিভিন্ন দেশে ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এড়ানোর তাড়নায় প্রত্যেক মানুষ ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহে রাখতে চাচ্ছেন। একারণে এসব উপকরণের চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সে অনুসারে সরবরাহ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যেও নিরাপত্তা উপকরণ দুর্লভ হয়ে পড়েছে।

কিন্তু দুশ্চিন্তা করবেন না, করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে আপনি নিজেই ফেস মাস্ক তৈরি করতে পারবেন। অতএব, ১০ টাকার সাধারণ ফেস মাস্ক ১০০ টাকা অথবা ৬০ টাকার সার্জিক্যাল মাস্ক ৬০০ টাকা দিয়ে কেনার প্রয়োজন নেই।

কীভাবে ঘরের উপকরণ দিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করা যাবে তা একটি ভিডিওতে দেখিয়েছেন হংকংয়ের বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব হংকং-শেনজেন হসপিটালের অধ্যাপক আলভিন লাই, ডা. জো ফ্যান ও ডা. আইরিস লি ঘরে মাস্ক তৈরির এ্ই সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

বিজ্ঞানীদের শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ঘরের ১০টি সাধারণ আইটেম দিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করা যায়। একটি ফেস মাস্ক তৈরি করতে আপনার যা লাগবে তা হলো: কিচেন রোল, টেকসই টিস্যু পেপার, রাবার ব্যান্ড, পাঞ্চিং মেশিন, কাঁচি, প্লাস্টিকে আবৃত স্টিল অয়্যার, চশমা, প্লাস্টিক ফাইল ফোল্ডার ও বাইন্ডার ক্লিপ। বিজ্ঞানীরা এটাও জানান যে, কিছু ম্যাটারিয়াল ফেস মাস্ক তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়, যেমন- ক্লিং ফিল্ম, এয়ার কন্ডিশনার ফিল্টার পেপার ও কটন ক্লথ।

নির্বাহী কাউন্সিলর ও বয়োজ্যেষ্ঠ কমিশন চেয়ারম্যান ডা. লাম চিং-চই সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, ‘আমি আশা করি এই উদ্ভাবন জনসাধারণের আতঙ্ক কমাবে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঘরে তৈরি এই মাস্ক একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।’ করোনাভাইরাস এড়ানোর লক্ষ্যে ঘরে মাস্ক তৈরি করতে বিজ্ঞানীদের নির্দেশনা হলো:

* প্রথমে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন এবং আইটেমগুলোকে পরিষ্কার করুন।

* এক টুকরো কিচেন রোলের ওপর আরেক টুকরো কিচেন রোল রাখুন।

* এবার কিচেন রোলের টুকরো দুটির ওপর এক টুকরো টিস্যু পেপার রাখুন।

* কিচেন রোল-টিস্যু পেপারের স্ট্যাকটিকে কাঁচি দিয়ে কেটে দুভাগ করুন।

* এরপর একটি মাস্কের দুপাশকে পেপার ট্যাপ দিয়ে সিল করে দিন।

* সিল করা প্রত্যেক পাশে পাঞ্চিং মেশিন দিয়ে দুটি করে ছিদ্র করুন।

* মাস্কের উপর প্রান্তে পেপার ট্যাপ দিয়ে ধাতব তারটি (প্লাস্টিক-কোটেড স্টিল অয়্যার) যুক্ত করে দিন। এটি নোজ ব্রিজ অয়্যার হিসেবে কাজ করবে।

* মাস্কের উভয় পাশের ছিদ্রগুলোতে চারটি রাবার ব্যান্ড বেঁধে নিন।

এই তো আপনার ফেস মাস্ক তৈরি হয়ে গেল। সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো জোরদার করতে এই মাস্কের ওপর একটি প্রোটেক্টিভ শিল্ড বসাতে পারেন। প্রোটেক্টিভ শিল্ড তৈরি করতে প্লাস্টিকের ফাইল ফোল্ডারটিকে কেটে দুভাগ করুন। এবার প্লাস্টিক ফাইল ফোল্ডারের একটি খন্ডকে বাইন্ডার ক্লিপ দিয়ে চশমার ফ্রেমের উভয় ডাঁটে সংযুক্ত করুন। প্রত্যেক ব্যবহারের পর শিল্ডটিকে জীবাণুমুক্ত করে পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

ডা. ফ্যান বলেন, ‘সরবরাহে অপ্রতুলতার কারণে ফেস মাস্ক কিনতে পাওয়া না গেলে ঘরে তৈরি মাস্ক বিকল্প হতে পারে। এটি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কিছু না কিছু কমাবে। কিন্তু ঘরে তৈরি মাস্ককে সার্জিক্যাল মাস্কের বিকল্প ভাবা উচিত নয়।’ সার্জিক্যাল মাস্কের ঝুঁকি কমানোর ক্ষমতা অন্য মাস্কের চেয়ে বেশি, কিন্তু এ মাস্ক পেতে ব্যর্থ হলে ঘরে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করলে ক্ষতি কী?



তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

 

ঢাকা/ফিরোজ


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

কণিকাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার

২০২০-০৩-২৯ ৬:৪৮:৩৫ পিএম

দিনপতি

২০২০-০৩-২৯ ৬:৪৪:১৭ পিএম

‘কয় বেলা না খেয়ে থাকা যায়’

২০২০-০৩-২৯ ৬:২৯:০২ পিএম