প্রতি বছর বাড়ে মেয়াদ ও প্রকল্প ব্যয়

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ৮:৫২:৩৪ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয় না ওয়াসার প্রকল্পের কাজ। প্রতি বছর বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ানো হয় মেয়াদ ও ব্যয়। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা নানাভাবে অবৈধ সুবিধা ভোগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হয় না।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ঢাকা ওয়াসার দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম’ এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দুদকের টিম ওয়াসার ১১টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশ করেছে দুদক টিম।

রাজধানীর মিরপুরে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসকরণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে দেখা গেছে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম প্রকল্পটি ২০১২ সালের ২২ নভেম্বরে অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী ৫২১ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ৫৭৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ৫২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজের মধ্যে ৪৬টি উৎপাদনযোগ্য কূপ খনন, দুটি আয়রন অপসারণ প্ল্যান্ট নির্মাণ, একটি ভূ-উপরিস্থ জলাধার নির্মাণ, ৭.৮১ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪৮.৭৮ কিলোমিটার পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৬.৭২ শতাংশ। এ কাজে ঠিকাদারকে ৩১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা সংশোধিত ডিপিপি মূল্যের ৫৪.৭৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতির সাথে ঠিকাদারের পরিশোধিত বিলের অনেক পার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট রাখার স্বার্থে প্রতিদিন ৪০ কোটি লিটার অতিরিক্ত পানি সরবরাহ করার জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন/প্রতিস্থাপন/রিজেনারেশন ও পানির লাইন নির্মাণ/পুনর্বাসনের জন্য ২০১৫ সালে তিন বছর মেয়াদী জিওবি ২৪২ কোটি ও ওয়াসার ১০ কোটি টাকাসহ মোট ২৫২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি গৃহীত হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় প্রথম অনুমোদিত ডিপিপির মাত্র ৫১ শতাংশ হলেও পুনরায় ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। ২০১৮ সালে  জুনের মধ্যে সমাপ্ত করার কথা থাকলেও প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন ও কিছু পানির লাইন স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। কাজের অগ্রগতির সাথে ঠিকাদারের পরিশোধিত বিলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

‘সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেইজ-৩) প্রকল্পে’ ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি ব্যয়ে ২০১৫ থেকে ২০২০ মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা। এ প্রকল্পের কাজে তেমন অগ্রগতি নেই।

পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পে পদ্মা নদীর তীরে যশলদিয়া নামক স্থানে পানি শোধনাগার নির্মাণের মাধ্যমে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, নবাবপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৪৫০ এমএলডি সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার কথা থাকলেও তা সমাপ্ত হয়নি।

ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৩ থেকে ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। এ প্রকল্পে ২৩৮ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮ শতাংশ।

দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে ঢাকা শহরের গুলশান, বনানীসহ অন্যান্য এলাকায় পয়ঃবর্জ্য পরিশোধ প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ থেকে ২০১৯ মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা। এ যাবত প্রায় ১০১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি একেবারেই নগণ্য।

প্রায় ২৪ কোটি টাকার ঢাকা মহানগরীর আগারগাঁও এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হওয়ার কথা। এ প্রকল্পে তেমন অগ্রগতি নেই।

ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রায় ৩ হাজার ১৮২ কোটি টাকার। এটি ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। অদ্যাবধি প্রকল্পের অগ্রগতি নেই। এ প্রকল্পের কাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকলেও কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পরামর্শক ও ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি :

বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরামর্শক ও ঠিকাদার নির্বাচনের বিষয়ে দাতা সংস্থার গাইডলাইন ও ঋণচুক্তির শর্তাবলী মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরামর্শক ও ঠিকাদার নির্বাচনের বিষয়ে এমন কিছু শর্তারোপ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঠিকাদার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট পদ্ধতি ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং কাজ পাওয়ার বিনিময়ে ঘুষ লেনদেন বর্তমানে একটি প্রচলিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপ স্থাপন, মিটার রিডিং ও রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতি:

ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপ স্থাপন, মিটার রিডিং ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ওয়াসা এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করায় প্রকৌশল ও রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।

ওয়াসা কর্মচারীদের ওভারটাইম বিল সংক্রান্ত দুর্নীতি:

ঢাকা ওয়াসায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ওয়াসার বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীদেরকে তাদের নির্ধারিত কার্যসময়ের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে তাদেকে ওভারটাইম বিল দেয়া হয়, যা তাদের মূল বেতনের প্রায় দ্বিগুণ। অনেক ক্ষেত্রে কিছু প্রভাবশালী কর্মচারী ওভারটাইম না করেও ওয়াসার কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ওভারটাইম বিল নেন।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ জুলাই  ২০১৯/এম এ রহমান/রফিক

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ঢাকায় আসছে স্করপিয়ন্স ও ইয়ান্নি

২০১৯-০৮-২৫ ৬:১১:০৪ পিএম

আরো দুই জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ

২০১৯-০৮-২৫ ৫:৩১:২১ পিএম

ব্লাড প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

২০১৯-০৮-২৫ ৪:৫৯:২৩ পিএম