সাবধান! অবহেলায় পুড়ছে ত্বক

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১০ ৮:১৯:২৭ এএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : যারা রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক রক্ষা করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, তারা সাধারণত কিছু কমন স্থানে এটি প্রয়োগ করেন। কিন্তু শরীরের এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ স্থানগুলো রোদে বিশেষভাবে সংবেদনশীল। এমনকি এসব স্থান রোদে পুড়লে ত্বকের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সচরাচর সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না শরীরের এমন কিছু স্থানের যত্ন নিতে হবে। এ প্রতিবেদনে অবহেলার কারণে শরীরে যেসব স্থানের ত্বক রোদে পুড়তে পারে তা আলোচনা করা হলো।

মাথার ত্বক

আপনার মাথায় চুল থাকুক কিংবা না থাকুক, মাথার ত্বক সূর্যালোক থেকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউ ইয়র্ক সিটির ডার্মাটোলজিস্ট ড্যানিয়েল বেলকিন বলেন, ‘অনেক লোক এই স্থানের কথা ভুলে যায়, কিন্তু মাথায় চুল নেই অথবা হালকা চুল রয়েছে এমন পুরুষদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত। স্কাল্প রোদে পুড়লে তাতে চুলকানি ও অস্বস্তি হয়, কিন্তু এটি স্পর্শকাতর স্থান বলে কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা কঠিন।’ সানস্ক্রিনের ব্যবহার ছাড়াও ডা. বেলকিন স্কাল্পে রোদের সংস্পর্শ এড়াতে প্রশস্ত কিনারার হ্যাট পরতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

কানের শীর্ষস্থান

শরীরের খুব স্পর্শকাতর স্থানগুলোর একটি হলো কানের শীর্ষস্থানের ত্বক। এই জায়গাটি রোদে পুড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, বলেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত মাউন্ট সিনাই হসপিটালের অন্তর্গত ডার্মাটোলজির কসমেটিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চের পরিচালক জশুয়া জেকনার। অথচ সানস্ক্রিন প্রয়োগের সময় কানের শীর্ষস্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। কিন্তু স্থানটি রোদ থেকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

চোখ

আপনি এটি অনুধাবন নাও করতে পারেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনার চোখও রোদে পুড়তে পারে। এটিকে ফোটোকেরাটাইটিস বলে, যা সাধারণত কর্নিয়া ও চোখের সাদা অংশকে প্রভাবিত করে। ফলে ব্যথা ছাড়াও চোখ লাল হওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, আলোক সংবেদনশীলতা ও অতিরিক্ত অশ্রু উৎপাদনের কারণ হতে পারে। চোখ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে ইউভি শিল্ডিং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

নিচের ঠোঁট

আপনার নিচের ঠোঁট ও ঠোঁটের কোণ ওপরের ঠোঁটের তুলনায় সূর্যালোকের সংস্পর্শে বেশি আসে। জায়গাটি সূর্যালোকের সংস্পর্শে বেশি আসলে দীর্ঘস্থায়ী ঠোঁট ফাটা অথবা চামড়া ওঠার কারণ হতে পারে। এর চিকিৎসা করা না হলে এসি থেকে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা নামক ত্বকের ক্যানসার হতে পারে। আপনার ঠোঁট সুরক্ষিত রাখতে এসপিএফ সমৃদ্ধ লিপ বাম ব্যবহার করুন।

বুক ও ঘাড়

যদি আপনি সমুদ্র সৈকতে স্বল্পবসনে সময় কাটাতে চান, তাহলে বুক ও ঘাড়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু বুক ও ঘাড়ে বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে, তাই এসব স্থান সানস্ক্রিন ব্যবহার করে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির অত্যধিক সংস্পর্শে বুক ও ঘাড়ে সূর্যদাগ ও বলিরেখা সৃষ্টি হতে পারে।

হাতের পিঠ

হাতের পিঠে প্রতিনিয়ত সূর্যালোক পড়ে। আপনার হাত অনাবৃত থাকে বলে সাধারণত এটি সূর্যালোক থেকে সুরক্ষিত থাকে না, বলেন ডা. বেলকিন। হাতের পিঠ রোদে পুড়লে শুধুমাত্র যন্ত্রণাই হয় না, এটি আপনাকে দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকেও বিরত রাখতে পারে। নিশ্চিত হোন যে আপনার পুরো হাতেই এসপিএফ ব্যবহার করেছেন।

পিঠ ও কাঁধ

অনেকে সমুদ্র সৈকতে পেট লাগিয়ে শুয়ে পড়েন, ফলে তাদের পিঠ ও কাঁধে সূর্যালোক পড়ে টমেটোর মতো লাল হয়ে যায়। সেখানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে এবং রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। সৈকতে যাওয়ার পূর্বে কাউকে দিয়ে পিঠ ও কাঁধে সানস্ক্রিন মেখে নিন এবং সেখানে দীর্ঘসময় কাটানোর ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন প্রয়োগ করুন।

পায়ের তলা ও হাঁটুর পেছন

কেবলমাত্র পায়ের উপরিভাগই সূর্যালোকের প্রতি সংবেদনশীল নয়, পায়ের তলার ত্বকও রোদের সংস্পর্শে আসলে সহজে পুড়ে যেতে পারে। আপনার পায়ের তলা রোদে পুড়লে ঠান্ডা পানিতে ভেজানোর পর অ্যালো জেল প্রয়োগ করুন। সূর্যালোকের প্রতি আরেকটি সংবেদনশীল স্থান হলো হাঁটুর পিঠ। এই স্থান রোদে পুড়লে আপনি প্রতি পদক্ষেপে যন্ত্রণা অনুভব করবেন। আপনার হাঁটুর পিঠে রোদ পড়ার সম্ভাবনা থাকলে উচ্চ লেভেলের এসপিএফ (অন্তত ৩০ অথবা ৩০+) প্রয়োগ করুন।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জুলাই ২০১৯/ফিরোজ/তারা


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘আমার কাছে শিক্ষক মানে সবাই সমান’

২০১৯-১১-১৫ ১০:৫১:৪১ এএম
সাদাসিধে কথা

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

২০১৯-১১-১৫ ১০:০০:১৮ এএম

কোহলিকেও ফেরালেন রাহী

২০১৯-১১-১৫ ৯:৫৫:২৬ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-১১-১৫ ৮:৪৪:১২ এএম

জনবল সংকটে সুবিধা কাজে লাগছে না

২০১৯-১১-১৫ ৮:২৭:১৩ এএম

নাগপুর অরেঞ্জ সিটিতে আমরা

২০১৯-১১-১৫ ৮:২৪:৩৫ এএম

লোকসংগীত উৎসবে আজ গাইবেন যারা

২০১৯-১১-১৫ ৮:১৮:০৭ এএম

মামা হালিমের মামার খোঁজে

২০১৯-১১-১৫ ৮:১৬:৩৬ এএম