দুধ পানে আলসার নিরাময় হয়?

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৩ ৮:০১:৪৫ এএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম ইকবাল : আপনি হয়তো শুনে থাকবেন যে, দুধ পানে আলসার নিরাময় হয়। কিন্তু এ কথার সত্যতা কতটুকু? যদি দুধ আলসারের চিকিৎসায় সহায়ক হয়, তাহলে কতটুকুই বা সাহায্য করে? নাকি এ কথার কোনো ভিত্তি নেই? আসুন, দুধ পান আলসারের চিকিৎসার জন্য ভালো কি না জানার পূর্বে পেপটিক আলসার সম্পর্কে জেনে নিই।

পেপটিক আলসার হলো পাকস্থলি অথবা ডিওডেনামের (পাকস্থলির ঠিক নিচে অবস্থিত ক্ষুদ্রান্তের প্রথম অংশ) ভেতরের স্তরে সৃষ্ট উন্মুক্ত ক্ষত। আলসার একজন মানুষকে প্রচুর ব্যথায় ভোগাতে পারে, বিশেষ করে যখন পাকস্থলি খালি থাকে। আলসারের অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে পেটফাঁপা, বুকজ্বালা, ঢেঁকুর, বমি ও ওজন হ্রাস উল্লেখযোগ্য। আলসার রক্তক্ষরণের মতো যথেষ্ট অগ্রসর পর্যায়ে গেলে একজন লোকের মল কালো আলকাতরার মতো হতে পারে।

অনেকে মনে করেন যে, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে আলসার হয়ে থাকে, কিন্তু গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, স্ট্রেসের সঙ্গে আলসারের তেমন কোনো যোগসূত্র নেই। আলসারের সবচেয়ে কমন কারণ হলো পেপসিন নামক গ্যাস্ট্রিক জুস বা পাচক রসের ভারসাম্যহীনতা- এই ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী হলো এইচ. পাইলরি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকশন। যেহেতু খাবার খেলে তা পাকস্থলিতে আসে, তাই এটা বিশ্বাস করা হয় যে, কিছু খাবার বা পানীয় গ্রহণও আলসার সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু গবেষণার আলোকে এটা বলা যায়, কোনো নির্দিষ্ট খাবার আলসার তৈরি করে না, কিন্তু ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল আলসারজনিত উপসর্গের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

আলসারের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে দুধ পান করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, কারণ যারা এ পরামর্শ দেন তারা ধারণা করেন যে, এটি আলসারজনিত উপসর্গ প্রশমিত করে আলসার নিরাময়ে সাহায্য করে। কিন্তু এটি সবসময় সত্য নয়। এটি মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য উপসর্গ প্রশমিত করতে পারে অথবা আরাম দিতে পারে। আলসার নিরাময়ের আশা নিয়ে বেশি পরিমাণে দুধ পান করতে যাবেন না, কারণ এটি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে পাকস্থলিকে উদ্দীপ্ত করে, যা আলসার অথবা এ দশার উপসর্গকে আরো খারাপ করতে পারে। আপনাকে দুধ এড়িয়ে যেতে বলা হচ্ছে না, আপনি প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ পান করতে পারেন, যদি দুধ পানের পর সমস্যা অনুভব না করেন। এটা মনে রাখবেন যে, বেশি পরিমাণে দুধ পানে আলসার নিরাময় হয় না।

আলসার নিরাময় দ্রুত করতে কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই। এটি সেরে উঠতে সময় ও ওষুধ লাগে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে কিছু খাবার অন্যান্য খাবারের তুলনায় আলসার বাড়ায়। যেমন কফি, চা, কোলা, চকলেট, অ্যালকোহল ও ফলের রস। আপনার আলসার নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত এসব খাবার বর্জন করুন। কিছু ক্ষেত্রে আলসারের রোগীরা খাবারে গোল মরিচ, রসুন ও মরিচের গুঁড়ার পরিমাণ কমিয়ে আলসারজনিত অস্বস্তি হ্রাস করতে পারেন।

খাবার খাওয়ার সময়ও পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কিছু আলসার রোগী জানিয়েছেন যে, দুই বেলার খাবারের মাঝে হালকা জলখাবার এড়িয়ে যাওয়াতে ব্যথা হ্রাস পেয়েছিল, কারণ ঘনঘন খাবার খেলে পাকস্থলিতে অ্যাসিড উৎপাদন বেশি হয়, অন্যদিকে ঘনঘন খাবার না খেলে এর বিপরীতটাই ঘটে- অর্থাৎ পাকস্থলিতে অ্যাসিডের মাত্রা হ্রাস পায়। পাকস্থলিতে কম অ্যাসিডের মানে হলো আপনার আলসার কম উক্ত্যক্ত হচ্ছে। যদি মনে করেন যে আপনার আলসার হয়েছে, তাহলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ফিরোজ/তারা


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শফিকুল ১০ দিনের রিমান্ডে

২০১৯-০৯-২১ ৫:২৫:১০ পিএম

বাবার সাথে ঢাকার পথে মিন্নি

২০১৯-০৯-২১ ৫:২২:২৮ পিএম

কাল থেকে জাবির ভর্তি যুদ্ধ শুরু

২০১৯-০৯-২১ ৫:১৯:১২ পিএম

৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

২০১৯-০৯-২১ ৪:০৩:০২ পিএম