করোনায় পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে?

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৭ ৭:০৩:৪৯ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

চলমান করোনার মহামারিতে মানুষের কপালে এমনিতেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দুশ্চিন্তার মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছে এশিয়ার কিছু করোনা সংক্রান্ত কেস। সংবাদমাধ্যম এসেছে যে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছু লোক কোভিড-১৯ থেকে নিরাময় পাওয়ার পর করোনা টেস্টে পুনরায় পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। তাদেরকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটা আসলেই উদ্বেগের খবর। যদি কেউ পুনরায় করোনায় সংক্রমিত হন, তাহলে জটিলতা বা পরিণতি কেমন হতে পারে?

সার্স-কভ-২ তথা কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী নতুন করোনাভাইরাসটি কয়েকমাস আগে আবিষ্কৃত হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা এখনো ভাইরাসটি সম্পর্কে অনেক বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তেমন একটি প্রশ্ন হচ্ছে, কোভিড-১৯ রোগীদের উপসর্গ সম্পূর্ণ দূর হওয়ার পর তারা কি আবারও ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হতে পারেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের অন্যান্য স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে রোগীদের শরীরে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি নির্দিষ্ট করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস অথবা কয়েক বছর পর্যন্ত ইমিউনিটি দেয়, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে তারা ভাইরাসটিতে আর সংক্রমিত হন না। কিন্তু গবেষকরা এখনও নিশ্চিত নন যে, কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী নতুন করোনাভাইরাসটি কত সময়ের জন্য ইমিউনিটি দেয়। গবেষকরা প্রশ্নটির সুনির্দিষ্ট উত্তর পেতে গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। কোভিড-১৯ বা নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে অথবা কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের জন্য এর উত্তর জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্যলাভের পর আবারও সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে? এ সম্পর্কে গবেষকরা নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেননি। তারা মনে করছেন যে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পুনরায় সংক্রমণের যে কেসগুলো পাওয়া গেছে তা পুনঃসংক্রমণ নাও হতে পারে। হয়তো তাদের শরীরে নতুন করোনাভাইরাস থেকে গিয়েছিল, কিন্তু টেস্টে অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলো হয়তো তাদেরকে পরবর্তীতে আবারও উপসর্গে ভুগিয়েছে অথবা টেস্টের রেজাল্টকে পজিটিভ করেছে। তাই এসব কেস পুনঃসংক্রমণ না হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, শরীরে কোনো ভাইরাস প্রবেশের পর যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা অতি শিগগির ভাইরাসটিতে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাতিল করে। এই তত্ত্ব কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী নতুন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও সত্য হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস মেডিক্যাল ব্রাঞ্চের ভাইরোলজিস্ট বিনিত মিনাশেরি বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে রোগীর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।’

আরোগ্যলাভের পর টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসলে ফলাফলটি ফলস নেগেটিভ হতে পারে, অর্থাৎ রোগীটি এখনো সংক্রমিত অবস্থায় আছেন। এর কারণ হতে পারে, চিকিৎসকেরা রোগীর শরীর থেকে যে নমুমা নিয়েছেন তা মানসম্পন্ন ছিল না অথবা তাতে ভাইরাসের উপস্থিতি ছিল না অথবা টেস্টটি অতটা সেনসিটিভ ছিল না, বলেন চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের শ্বাসতন্ত্রীয় ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডেভিড হুই। তিনি ২০০২-২০০৩ সালে প্রাদুর্ভূত একই পরিবারের করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (সার্স) নিয়েও গবেষণা করেছেন।

অন্যদিকে, নিরাময়ের পর শরীরে রয়ে যাওয়া রেসিডুয়াল ভাইরাল আরএনএ’র কারণে টেস্টে পজিটিভ রেজাল্টও আসতে পারে, কিন্তু রোগ সৃষ্টি করার মতো যথেষ্ট পরিমাণে নয়, বলেন ডা. মিনারেশি। তিনি আরো বলেন, ‘প্রকৃত ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরও দীর্ঘসময় ধরে ভাইরাল আরএনএ থেকে যেতে পারে।’

চাইনিজ সিটি অব শেনজেনে কোভিড-১৯ থেকে আরোগ্যলাভ করা ২৬২ জন রোগীকে ডিসচার্জ করার পর আবারও টেস্ট করে দেখা হয়। চমকে দেয়ার মতো তথ্য হলো, তাদের মধ্যে ৩৮ জনের (প্রায় ১৫ শতাংশ) টেস্ট রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। তাদেরকে পলিমারেজ চেইন রিয়্যাকশন টেস্ট করা হয়েছিল- এই টেস্ট এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য সেরা টেস্ট। এই ৩৮ জনের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ছিল ১৪ বছরের নিচে এবং সংক্রমিত অবস্থায় মৃদু উপসর্গ ছিল। তবে আরোগ্যলাভের পর যে টেস্ট করা হয়েছিল তখন অধিকাংশেরই উপসর্গ ছিল না।

তথ্যসূত্র: টাইম

 

ঢাকা/ফিরোজ


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ