করোনাভাইরাস আপনার ফুসফুসে যা ঘটায়

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ১২:৫৩:১৩ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তথা কোভিড-১৯ হলো শ্বাসতন্ত্রীয় রোগ, যা ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ভাইরাসটির সংক্রমণে ফুসফুসে প্রদাহ মানে নিউমোনিয়া হয়।

কোভিড-১৯ শ্বাসতন্ত্রীয় উপসর্গ সৃষ্টি করে, যা মৃদু থেকে গুরুতর হয়ে থাকে। বয়স্ক লোক এবং হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের মধ্যে অধিক মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

করোনাভাইরাস ও ফুসফুস : নভেল করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে নাক, মুখ ও চোখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির সংস্পর্শে আসে। ভাইরাসটি একটি সুস্থ কোষে প্রবেশ করে এবং নতুন ভাইরাস অংশ তৈরি করতে কোষটিকে ব্যবহার করে। ভাইরাসটির প্রতিলিপি বৃদ্ধি পেতে থাকে ও নতুন ভাইরাসগুলো পার্শ্বস্থ কোষসমূহকে সংক্রমিত করে।

শ্বাসতন্ত্রকে উল্টানো বৃক্ষ হিসেবে ভাবতে পারেন, যেখানে ট্রাকিয়া বা উইন্ডপাইপ হচ্ছে ট্রাঙ্ক (বৃক্ষের প্রধান গুঁড়ি)। এর ছোট ছোট শাখাগুলো ফুসফুসে ছড়িয়ে আছে। প্রত্যেক শাখার শেষপ্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্র বায়ুথলিকে অ্যালভিওলাই বলে। এখানে অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে আসে।

নতুন করোনাভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশ অথবা নিচের অংশকে সংক্রমিত করতে পারে। ভাইরাসটি শ্বাসতন্ত্রের নিচের অংশ তথা ফুসফুসে পৌঁছে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। কিছুক্ষেত্রে অ্যালভিওলাই পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মৃদু ও পরিমিত সংক্রমণ : শ্বাসতন্ত্র সংক্রমিত হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম লড়াই শুরু করে। সংক্রমিত লোকের ফুসফুস ও বায়ুপথ ফুলে যায় ও প্রদাহিত হয়। এটি ফুসফুসের একটি অংশে শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ লোকের মৃদু থেকে পরিমিত উপসর্গ প্রকাশ পায়। শুষ্ক কাশি আসতে পারে অথবা গলা ব্যথা করতে পারে। কিছু লোকের নিউমোনিয়া হতে পারে- ফুসফুসের এই সংক্রমণে অ্যালভিওলাইতে প্রদাহ হয়। চিকিৎসকেরা বুকের এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানে শ্বাসতন্ত্রীয় প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পারেন।

তীব্র সংক্রমণ : কোভিড-১৯ এর ১৪ শতাংশ কেস তীব্র প্রকৃতির। এই সংক্রমণে উভয় ফুসফুসই আক্রান্ত হতে পারে। ফোলা বৃদ্ধি পেয়ে ফুসফুসগুলো তরল ও ধ্বংসাবশেষে পূর্ণ হতে থাকে।

এসব রোগীদের অধিক মারাত্মক নিউমোনিয়া ডেভেলপ করতে পারে। বায়ুথলিগুলো শ্লেষ্মা, তরল ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইকারী কোষে ভরে যায়। এর ফলে শরীরের পক্ষে অক্সিজেন গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। শ্বাস নিতে কষ্ট অথবা শ্বাসক্রিয়া দ্রুত হতে পারে।

গুরুতর সংক্রমণ : কোভিড-১৯ এর প্রায় ৫ শতাংশ কেস গুরুতর প্রকৃতির, যেখানে এই সংক্রমণে ফুসফুসের বায়ুথলির প্রাচীর ও ভেতরস্থ স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংক্রমণ থেকে নিরাময় পেতে শরীরের অব্যাহত প্রচেষ্টায় ফুসফুসে প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যায় ও তরলে পূর্ণ হয়। এর ফলে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

এসব রোগীদের তীব্র নিউমোনিয়া অথবা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোম (এআরডিএস) ডেভেলপ করে। অধিকাংশ গুরুতর কোভিড-১৯ সংক্রমণে ফুসফুসের কার্যক্রমে সচল রাখতে ভেন্টিলেটর মেশিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

কোভিড-১৯ এর জটিলতা : নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হয়ে ভালো অনুভব করতে সময় লাগতে পারে। এসময় সচরাচরের চেয়ে বেশি ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে এবং আগে সহজে যে ব্যায়াম করা যেত তার চর্চা অসম্ভব হতে পারে। কোভিড-১৯ থেকে নিরাময়ের পরও কিছু লোকের কাশি হতে পারে এবং কারো কারো ফুসফুসে ফাইব্রাস টিস্যুর আবরণ তৈরি হয়। এসব প্রতিক্রিয়া সেরে ওঠবে নাকি স্থায়ী হবে তা সময়ই বলে দেবে।

তথ্যসূত্র: ওয়েব এমডি



ঢাকা/ফিরোজ


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ইরাকে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

২০২০-০৬-০৬ ১২:২১:২৪ এএম

সাহসী চরিত্রে কীর্তির ‘না’

২০২০-০৬-০৬ ১২:১৯:৩৪ এএম