বড় অংকের সহায়তা দিচ্ছে জার্মানি

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২৯ ৮:৩২:০২ পিএম
হাসান মাহামুদ | রাইজিংবিডি.কম

হাসান মাহামুদ : নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে জার্মানির সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পক। আইনের শাসন ও সুশাসন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা এবং শহর এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এই তিন খাতে বাংলাদেশকে বড় অংকের সহযোগিতা করতে যাচ্ছে দেশটি।

ঢাকায় জার্মান দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দেশটি বাংলাদেশকে ২৮ কোটি ইউরো সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য দুই কোটি ৯০ লাখ ইউরো সহায়তা দে্ওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। সুন্দরবনে গড়ান বনভূমির ব্যবস্থাপনা খাতেও জার্মানি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি করতে যাচ্ছে জার্মান সরকার।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পোশাক খাত, নদী খননসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে জার্মানি৷ বাংলাদেশের শিল্প খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও জার্মানি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে কারিগরি সহায়তা চুক্তি ২০১৮ এবং আর্থিক সহায়তা চুক্তি ২০১৮ আগামীকাল মঙ্গলবার স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং জার্মান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ প্রস্তাবিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করবেন।

ইআরডি’র ইউরোপ উইংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর মোসলেমা নাজনিন রাইজিংবিডিকে বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক প্রকল্প ও কর্মসূচির পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে এসব চুক্তি হবে। মূল চুক্তির পর বিভিন্ন খাতভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ এবং চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হবে।

ইআরডি সূত্র বলছে, ইউরোপে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ জার্মানির সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের৷ এই মুর্হূতে বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হচ্ছে জার্মানি৷ বিগত বছরগুলোতে জার্মানির সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আয়তন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে৷

বিভাগটি বলছে, নতুন করে জার্মানির সাথে বাংলাদেশের সরকারের ২৮ কোটি ইউরোর সহযোগিতা চুক্তি হলে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে জার্মানির সহযোগিতার পরিমাণ ৩০০ কোটি ইউরোতে উন্নীত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সর্ম্পকের আকার বাড়ছে। জার্মানি গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪২৮ কোটি ডলারের পণ্য কিনেছে, যার মধ্যে ৪০০ কোটি ডলারই ছিল তৈরি পোশাক৷ ৮ দশমিক ৩ কোটি ডলারের চামড়াজাত পণ্য, ৭ দশমিক ২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্যও রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ৷

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে জার্মানি আমদানি করেছে প্রায় ৮২ কোটি ডলারের পণ্য, যার অর্ধেকই ছিল মেশিনারি বা যন্ত্রপাতি৷

বাংলাদেশে এযাবতকালের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জার্মানির প্রতিষ্ঠান সিমেন্স৷ পায়রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে সাতশ’ কোটি ইউরো খরচ করবে তারা৷ যার অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের এলএনজি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের চুক্তি করে প্রতিষ্ঠানটি৷

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়ার কাজ পেয়েছে জার্মান প্রতিষ্ঠান ফেরিডোস৷ ৩৪ কোটি ইউরোর এই প্রকল্প শেষ হবে ১২ বছরে৷ চুক্তি অনুযায়ী জার্মান প্রতিষ্ঠানটির আগামী মাসেই প্রথম পর্যায়ের ই-পাসপোর্ট সরবরাহের কথা রয়েছে৷ বিশ্বে প্রযুক্তিগতভাবে জার্মানির পর বাংলাদেশই এত শক্তিশালী পাসপোর্টের অধিকারী হবে, যা জাল করা প্রায় অসম্ভব৷


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ জুলাই ২০১৯/হাসান/এনএ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বান্দরবানে বিক্ষোভ মিছিল

২০১৯-০৮-২১ ২:২১:০৩ পিএম

তদন্তে সত্যতা পেলেই ব্যবস্থা

২০১৯-০৮-২১ ২:০৭:৩১ পিএম

কী ঘটেছিলো সেদিন

২০১৯-০৮-২১ ২:০২:৪২ পিএম

নৈশ প্রহরীকে গলাকেটে হত্যা

২০১৯-০৮-২১ ১:২৩:৪৬ পিএম

‘অথবা একটি উড়োজাহাজের গল্প’

২০১৯-০৮-২১ ১:১৭:৫১ পিএম