একযুগেও ধানে লাগেনি সুবাতাস

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০১ ৮:২৬:১০ এএম
আরিফ সাওন | রাইজিংবিডি.কম

আরিফ সাওন : ৪১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে বেশ বেকায়দায় আছে। যার শুরু হয়েছিলো অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মেয়াদ শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে।

২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর ক্ষমতা হস্থান্তরের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। তৈরি হয় ১/১১ প্রেক্ষাপট। সেই থেকে গত এক যুগে এখনও পর্যন্ত বিএনপির ধানের শীষে লাগেনি সুবাতাসে ছোঁয়া।

স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে অগ্রনী ভুমিকা রাখা দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাবন্দি। ১/১১ এর পর থেকে দেশের বাইরে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সর্বশেষ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির ভূমিকা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কেননা, একটি নির্বাচনেও তারা ‍সুবিধা করে উঠতে পারেনি।

এর জন্য বিএনপি নেতারা দায়ি করছেন, বিরোধী মত ও দলের প্রতি সরকারের নিপিড়ন-নির্যাতন ও বিরাজনীতি করণের নীতিকে। অন্যদিকে রাজণৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনকে সরকার নিজের মত করে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রেখে বিএনপিকে বেকায়দায় রাখছে। যতোদিন না প্রশাসন সরকারের আনুগত্যের বাইরে না যাচ্ছে- ততদিন বিএনপির দুঃসময় ঘুচবে না। আবার কেউ কেউ মনে করছেন- ঘরে বসে না থেকে বিএনপির মাঠে নামা দরকার।

বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে না পারার কারণ সম্পর্কে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের নিপিড়ন-নির্যাতন, বিরাজনীতি করণের নীতি, প্রধান বিরোদীদল বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। এটাই প্রধান কারণ।

এ থেকে পরিত্রাণের জন্য জনগনকে সংগঠিত করে আন্দোলন করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মনে করেন তিনি। আর সেই পথেই হাটছে দলটি।

গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহও মনে করেন বিএনপির আন্দোলনে নামা দরকার। দীর্ঘদিন বিএনপি বেকায়দায় থাকার ব্যাপারে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মূল কারণ হলো তাদের নিস্কৃয়তা। তাদের রাস্তায় নামা দরকার। তারা খালি পারমিশনের অপেক্ষায় বসে থাকে।…স্থানীয় পারমিশন, পুলিশের পারমিশন- এতো পারমিশন নিয়ে তো পলিটিক্স হয় না।

মাঠে থেকে আন্দোলনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপি অনেক পিছিয়ে আছে- উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ বলেন, বিএনপি হচ্ছে ‘সাহেবী দল’। তারা মনে করে প্রেসক্লাবে বক্তৃতা দিলেই হবে।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। বিএনপিকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তাদের সাথে আপোষে রাজি হননি।

অবৈধ সরকারকে বৈধতার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আওয়ামী লীগ যেটা লাভ করলো-অ্যাডমিনিস্ট্রেশনটা পুরোপুরি তাদের হাতে চলে আসলো। এর ফলে কি হলো? বিএনপিকে শায়েস্তা করা সহজ হলো। তাদের মাধ্যমেই ক্ষমতায় টিকে গেলো। আর সেই সাথে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে দক্ষতার ভিত্তিতে না গড়ে অনুগত্যের ভিত্তিতে গড়ে তুললো।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় ১৫৪ আসন নিয়ে নিলো। আর ২০১৯ সালে যা হলো-৩০ তারিখের নির্বাচন হয়ে গেলো ২৯ তারিখ রাতে। এটা করলো কারা? করলো প্রশাসনে যারা আছেন, তারা।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যখন আমরা বলি তখন রাষ্ট্র, সরকার ও দল এই তিনটার মধ্যে পার্থক্য থাকবে। রাষ্ট্র হলো মূল। সরকার হলো যারা রাষ্ট্রকে পরিচালিত করে। আর দল হলো রাষ্ট্রের অধীনে এবং তারা যে কাজ করে তার জন্য দায়ী থাকে রাষ্ট্রের কাছে-সরকারের কাছে। কিন্তু এখন ক্ষমতার ব্যবহার করতে গিয়ে দল আর সরকার এক হয়ে গেছে-বলে মন্তব্য করেন এমাজউদ্দিন আহমেদ।

তার মতে, এভাবে বেশি দিন চলবে না। একদিন না একদিন সরকারের অনুগত্য থেকে তারা মুখ ফেরাবে। সরকারের প্রতি অনুগত্যবোধ থেকে মুখ না ফেরানো পর্যন্ত বিএনপি সুবিধা করে উঠতে পারবে না। আনুগত্য বোধ যদি চলে যায়, তখন ভোট সাধারণ মানুষের হাতে আসবে।

গত কয়েক বছরে সুবিধা করে উঠতে না পারার প্রধান কারণ হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জেল জুলুম, হত্যা, খুন, গুমের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের সারাক্ষণ তারা আতঙ্কে রাখছে।

তবে তিনি আশাবাদী এ অবস্থা থেকে বিএনপি ঘুরে দাড়াবে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/সাওন/নবীন হোসেন


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

২০১৯-০৯-২১ ৬:০৭:১৩ পিএম

শফিকুল ১০ দিনের রিমান্ডে

২০১৯-০৯-২১ ৫:২৫:১০ পিএম

বাবার সাথে ঢাকার পথে মিন্নি

২০১৯-০৯-২১ ৫:২২:২৮ পিএম

কাল থেকে জাবির ভর্তি যুদ্ধ শুরু

২০১৯-০৯-২১ ৫:১৯:১২ পিএম

৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

২০১৯-০৯-২১ ৪:০৩:০২ পিএম