জাপার ঘাঁটিতে আঘাত হানতে চায় আ.লীগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০১ ৫:৪২:০২ পিএম
এসকে রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

এসকে রেজা পারভেজ : টানা ছয় নির্বাচনে জয়লাভ করে রংপুর-৩ আসনটি মোটামুটি নিজেদের করে নিয়েছিলো জাতীয় পার্টি। দলটির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন ওই আসনের ‘মুকুটহীন রাজা’। এলাকায় না গিয়েও নির্বাচনে জয়ী হতেন তিনি। তবে তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওই আসনটিতে এবার সব হিসেব নিকেষ পাল্টে দিতে চায় আওয়ামী লীগ।

রংপুরের এ আসনটির ইতিহাস বিশ্লেষনে দেখা গেছে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৯ এর নির্বাচনে ওই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন এরশাদ। এর মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০১-এ আওয়ামী লীগ ওই আসনে তার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিলো। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে রংপুর-৩ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয় পান বিএনপির রেজাউল হক সরকার রানা। এরপর থেকেই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে। যদিও এর মধ্যে কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের হিসেব-নিকেষে ঔই আসনে প্রার্থী না দিয়ে জাপাকে ছাড় দেয়া হয়।

তবে আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেগে উঠেছে সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে রংপুরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনের উৎসব বইছে। তাদের বিশ্বাস, ১৯৭৩ সালের পর আবারো রংপুরের এই আসনটি দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন তারা।

এ আসনে একাধিকবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও জোটের স্বার্থে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান।

এবার উপ-নির্বাচনে জয়ের শতভাগ প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘রংপুরের এই আসনটি পুরো বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি মনোকষ্ট ছিলো। তবে এবার নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাসী, এখানে পুণরায় আওয়ামী লীগের সাংসদ আসবে।’

আসনটিকে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের এই নেতা। তার ভাষ্য, ‘আমরা অনেক দিন এখানে নির্বাচনে অংশই নেইনি। সুতরাং এখানে আওয়ামী লীগের যে জনপ্রিয়তা কতটুকু তা বোঝা যায়নি। রংপুরের এই আসনটি আমরা বরাবরই জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছি। তবে এবার উপ-নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার হবে। গত কয়েক বছরে সারাদেশে সরকার যে উন্নয়নের ধারা ছড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সাংসদ এলে এখানেও সেই উন্নয়ন ছড়িয়ে যাবে। অন্তত মানুষের মাঝে আমাদের নিয়ে যে স্বত:স্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে তাতে জয়ের ব্যাপারে আমার আস্থা শতভাগ।’

এদিকে রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে এবারও আওয়ামী লীগকে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘এ আসনের উপ-নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচন করার দাবি আমাদের। এ আসনে যাতে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী না দেয়, সে জন্য অনুরোধ রইল।’

তবে রংপুরের এই আসন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপাকে ছেড়ে দিলেও উপ-নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ সবার আছে, আমরাও সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

‘আমরা এ পর্যন্ত কোনো উপ-নির্বাচনে কাউকে ছাড় দেইনি। যার যার নির্বাচন তাদের দলীয় প্রতীকে করবে, জাতীয় পার্টি তাদের প্রার্থী দেবে। আওয়ামী লীগও এখানে প্রার্থিতা রাখবে। ছাড় দেওয়ার কোনো বিষয় নেই এখানে নেই।’-এমনটাই বলেন ওবায়দুল কাদের।

এরই মধ্যে সোমবার থেকে রংপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে তারা বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। ফরম বিক্রি চলবে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফরম বিক্রি চলবে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

রংপুর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মনোনয়ন পেতে রংপৃর জুড়ে প্রচারণা শুরু করেছেন সম্ভাব্য নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফুলু সরকার, মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করীম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি মণ্ডল প্রমুখ।

তবে এর মধ্যে চৌধুরী খালেকুজ্জামানকেই এগিয়ে রাখছেন রংপুরের নেতাকর্মীরা। কারণ এর আগে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি। আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তাছাড়া নেতাকর্মীদের মাঝেও তিনি জনপ্রিয়। সর্বশেষ তার নেতৃত্বে রংপুরে একটি মানববন্ধনে সাধারণ মানুষের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতি নির্বাচনে আশা জাগাচ্ছে আওয়ামী লীগকে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) যাকে মনোনয়ন দেবেন পুরো রংপুর আওয়ামী লীগ তার পক্ষে কাজ করবে। সেটা আমি হই, আর অন্য যে কেউ হোক।’

গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই এ আসনটি শূন্য ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোট আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলে রোববার নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান তফসিল ঘোষণা করেছেন।

ইসির দেওয়া তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর, যাচাই-বাছাই ১১ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন প্রত্যাহার ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ৫ অক্টোবর।

রংপুর-৩ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন। আসনটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/রেজা/নবীন হোসেন


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শেষ ভালোর প্রত্যাশায়

২০১৯-০৯-২০ ১:২৯:০৭ এএম

খালেদের বিরুদ্ধে মাদকের আরেক মামলা

২০১৯-০৯-১৯ ১১:৩১:১৬ পিএম