রংপুরে নৌকার পাল তুলবেন খালেকুজ্জামান?

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৬ ৯:৩০:২২ পিএম
এসকে রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

এসকে রেজা পারভেজ : জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম‌্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ‘জনপ্রিয়তা’ আর মহাজোটের হিসেব-নিকেশে রংপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই দীর্ঘদিন। প্রায় অপ্রতিরোধ্যভাবেই এই আসনটিতে লাঙ্গলের চাষ চলে এসেছে এতোদিন! যোগ্য নেতা থাকার পরও রাজনীতির সমীকরনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারার এতদিন আক্ষেপে পুড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তবে ৪৬ বছর পর এই আসনটিতে এবার লাঙ্গলের গতি থামিয়ে নৌকার পাল উড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া ওই আসনটিতে এবার নৌকার সাংসদ পাবেন। যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, ব্যক্তি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের একটা আলাদা জনপ্রিয়তা ছিলো। কিন্তু তার জায়গায় জাতীয় পার্টির শক্ত প্রার্থী নেই এখন। তাছাড়া এরই মধ্যে জাতীয় পার্টি দুই অংশে বিভক্ত হয়ে টালমাটাল অবস্থা পড়েছে। পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মনে হচ্ছে ভাঙার অপেক্ষায় এখন এরশাদের হাতে গড়া এই দল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দুই পক্ষ থেকে দু’জন প্রার্থী আসতেও পারে রংপুর-৩ আসনে। বিষয়টি যদি এমন হয় তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে। তাছাড়া গত কয়েকবছরে রংপুরে আওয়ামী লীগ নিজের সাংগঠনিক ভিত অনেক মজবুতও করেছে। বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনেও এর প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে দলটি। 

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে যে বিষয়টি আলোচনার তুঙ্গে সেটি হচ্ছে-কে হচ্ছেন এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরই মধ্যে ১৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাদের প্রায় সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যিনি এর আগেও ওই আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু মহোজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার কারণে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন নি।

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় প্রার্থী মনোনয়ন চুড়ান্ত করার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বৈঠক হবে।

রংপুরে প্রার্থী ঠিক করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, 'রংপুরের উপ-নির্বাচনে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মনোনয়নপত্র পেয়েছি। শনিবার মনোনয়ন বোর্ডের সভা। বঙ্গবন্ধু পরিবারে কেউ প্রার্থীতায় নেই। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই প্রার্থী ঠিক করবো।'

দলীয় সূত্র বলছে, রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন চৌধুরী খালেকুজ্জামান। এলাকায় তার গ্রহনযোগ্যতা এবং কর্মীবান্ধব সাংগঠনিক তৎপরতা তাকে এগিয়ে রেখেছে। এরই মধ্যে তাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে রংপুরে স্মরনকালের সবচেয়ে বড় মানববন্ধন ও মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা হয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর পর শূন্য ওই আসনে তিনি বেশ আগে থেকেই হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সভা-সমাবেশ, পথসভা এবং কুশল বিনিময় করছেন সবার সঙ্গে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশপাশি এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগও রাখছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়াদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রোজী রহমান, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজাউল ইমলাম মিলন, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মজিদ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোমতাজ উদ্দীন আহমেদ, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এটিএম তোহিদুর রহমান টুটুল, রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী বিপ্লব, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রাজু, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সফিউর রহমান, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দিলশাদ ইসলাম এবং হাবিবুল হক সরকার।

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে চৌধুরী খালেকুজ্জামান রাইজিংবিডিকে বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে দিনরাত দলের জন্য কাজ করেছি। রংপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। নির্বাচনে আমাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দীপনায় আমি মুগ্ধ, কৃতজ্ঞ।

১৯৯১ থেকে ২০১৯-সংসদ নির্বাচনে রংপুর আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এর মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০১-এ আওয়ামী লীগ ওই আসনে তার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিলো। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে রংপুর আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয় পান বিএনপির রেজাউল হক সরকার রানা। এরপর থেকেই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে। যদিও এর মধ্যে কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট কোন প্রার্থী না দিয়ে জাপাকে আসনটি ছেড়ে দেয়।

গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই এ আসনটি শূন্য ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোট আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির দেওয়া তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর, যাচাই-বাছাই ১১ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন প্রত্যাহার ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ৫ অক্টোবর।

রংপুর-৩ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১০৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ জন। আসনটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/রেজা/নবীন হোসেন


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

২০১৯-০৯-২১ ৬:০৭:১৩ পিএম

শফিকুল ১০ দিনের রিমান্ডে

২০১৯-০৯-২১ ৫:২৫:১০ পিএম

বাবার সাথে ঢাকার পথে মিন্নি

২০১৯-০৯-২১ ৫:২২:২৮ পিএম

কাল থেকে জাবির ভর্তি যুদ্ধ শুরু

২০১৯-০৯-২১ ৫:১৯:১২ পিএম

৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

২০১৯-০৯-২১ ৪:০৩:০২ পিএম