ডিসি অফিসে আজব ঘটনা, বয়স কমিয়ে নিয়োগ ১৭

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৬ ৮:৩১:২৩ এএম
এম এ রহমান মাসুম | রাইজিংবিডি.কম

আবেদনের জন্য বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০। কিন্তু চাকরি পেয়েছেন ৩২ থেকে ৫৩ বছর বয়সীরা। অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ১৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চাহিদাকৃত বয়সের চেয়ে যাদের বয়স ২ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত বেশি, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমন নিয়োগ বিষয়ে অভিযোগ তদন্ত করতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মনিরুল ইসলাম সই করা চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো অনুলিপিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সময়ে এ নিয়োগ সম্পন্ন হয়। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর ৩৯টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। যাদের মধ্যে ১৭টি পদে এমন অনিয়ম হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে সদ্য বিদায়ী ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও নিয়োগ প্রদানকারী কর্মকর্তা ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নিয়োগে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। বয়সের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন দেখা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্রে সংশোধনের আবেদন করেছেন।’

তবে নিয়োগের পর এসব কর্মচারীর বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে। সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনৈতিকভাবে এনআইডি বিভাগে একটি তালিকাও পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ২৭ অক্টোবর দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে তিনটি পদে ৩৯ জন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এতে আবেদনের শেষ সময় দেয়া হয় একই বছরের ৩০ নভেম্বর। আবেদনের শর্তে প্রার্থীর বয়স দেওয়া হয় ১৮ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মোতাবেক বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর। নিয়োগ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন অফিস সহায়ক, ৩ জন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. বাবুল হোসেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৪৭৫৬৭৬৮৭) অনুযায়ী জন্ম ৮ আগস্ট  ১৯৮২। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩৫ বছর ২ মাস ২২ দিন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধন আবেদনে ৮ আগস্ট ১৯৮২ এর পরিবর্তে ৮ অক্টোবর ১৯৮৭ করার অনুরোধ জানান তিনি।

একই পদে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুস সাত্তার। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৪৭৫৮০১৩৯) অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৮৪। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে  বয়স ছিল ৩৩ বছর ১০ মাস ২৯ দিন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধন আবেদনে ১ জানুয়ারি ১৯৮৪ এর পরিবর্তে ৩ মে ১৯৮৯ করার অনুরোধ জানান।

একই পদে নিয়োগ পান শহীদুল ইসলাম। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২২৯৬২৮৯০৫) অনুযায়ী জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৮২। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে  বয়স ছিল ৩৫ বছর ১০ মাস ২৯ দিন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধন আবেদনে ১ জানুয়ারি ১৯৮২ এর পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ১৯৯০ করার অনুরোধ করেন।

অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মাহমুদ আল ফয়সাল তামিম। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৬৫৬৯৯২৭৭৮৩) অনুযায়ী জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৬। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩০ বছর ১১ মাস ২০ দিন। তিনিও নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধনের আবেদন করেন।  যেখানে ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৬ এর পরিবর্তে ১ মার্চ ১৯৯০ করার অনুরোধ জানান।

নিয়োগ পেয়েছেন শিহাব হোসেন মানিক। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৬৭৩৯৪৫৭৯) অনুযায়ী জন্ম ১৯ অক্টোবর ১৯৮৭। আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩০ বছর ১ মাস ১১ দিন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধন আবেদনে ১৯ অক্টোবর ১৯৮৭ এর পরিবর্তে ৩০ জুন ১৯৮৮ করার অনুরোধ জানান।

একই পদে নিয়োগ পেয়েছেন শামছুল আলম। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১২৫২০৬১৪৪২৯০) অনুযায়ী জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৭। আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৪০ বছর ১০ মাস ২৯ দিন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া বয়স সংশোধন আবেদনে ১ জানুয়ারি ১৯৭৭ এর পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ১৯৮৮ করার অনুরোধ জানান।

নিয়োগ পেয়েছেন ওবায়দুর ইসলাম। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৪৭৫৬৭১১৬) অনুযায়ী জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮২। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩৪ বছর ১০ মাস ৩০ দিন।

ওই পদে নিয়োগ পাওয়া আবুল কাশেমের জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৯৪৪৮৩৬০৬) অনুযায়ী জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৬৪। কিন্তু আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৫৩ বছর ৮ মাস ১৪ দিন।

নিয়োগ পেয়েছেন জোবায়ের আলম খান। জাতীয় পরিচয়পত্র (৪৬০৫৪৩৭২৩৭) অনুযায়ী জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৮৫। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩২ বছর ৭ মাস ১৯ দিন।

ওমর ফারুক। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৪৭৫৭০৬৬৩) অনুযায়ী জন্ম ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২। তিনিও আবেদনের শেষ দিনে ৩৫ বছর ৯ মাস ২২ দিন বয়সে নিয়োগ পেয়েছেন।

নিয়োগ পেয়েছেন একাব্বর হোসেন আকন্দ। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১২৬৫০১৮০৩১৭৮) অনুযায়ী জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৮। কিন্তু চাকরির আবেদনের শেষ দিনে  বয়স ছিল ৩৯ বছর ১০ মাস ২৯ দিন।

একই পদে নিয়োগ পাওয়া আকরাম হোসেনেরও আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৪৮ বছর ৮ মাস ২৯ দিন। জাতীয় পরিচয়পত্রে (৬১২৫২০৩১২২৯৭৪) জন্ম ১ মার্চ ১৯৬৯।

আবদুল কাদিরের জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৫২৪৭৫৬৮৪৯৩) অনুযায়ী জন্ম ১ অক্টোবর ১৯৬৫। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৫২ বছর ১ মাস ২৯ দিন।

নিরাপত্তাপ্রহরী পদে নিয়োগ পেয়েছেন রুহুল আমিন। জাতীয় পরিচয়পত্র (১৯৮৬৬১১৫২৬৭০০০০৫৫) অনুযায়ী জন্ম ১৫ জুলাই ১৯৮৬। আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩১ বছর ৪ মাস ১৫ দিন। একই পদে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুল মান্নান। জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৬৫৬৯৯৩২৮১২) অনুযায়ী জন্ম ছিল ১ জানুয়ারি ১৯৮০। চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩৭ বছর ১০ মাস ২৯ দিন।

একই পদে আব্দুল কাদের জিলানীর জাতীয় পরিচয়পত্র (৬১১৬৫৬০০০৮৫০১০) অনুযায়ী জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৮৩। আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া লক্ষ্মী রানীর চাকরির আবেদনের শেষ দিনে বয়স ছিল ৩২ বছর ১০ মাস ২৯ দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৮৪।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/এম এ রহমান/সাইফ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ইলিশ বাঁচাতে নদীতে পুলিশ

২০১৯-১০-১৮ ১০:৫৬:২৪ এএম

ড্রাগন ফল কতটা স্বাস্থ্যকর?

২০১৯-১০-১৮ ৯:০৬:২৯ এএম

দেয়ালচিত্রে আবরারের কথা

২০১৯-১০-১৮ ৮:৩৯:২৫ এএম

পাঁচ বছর বয়সেই মা

২০১৯-১০-১৮ ৮:২১:৫৭ এএম