২ লাখ কর্মসংস্থান হবে আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে

প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৩ ৮:১৬:৩৬ এএম
কেএমএ হাসনাত | রাইজিংবিডি.কম

জি টু জি ভিত্তিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) স্থাপন করবে চীন। এখানে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি চাইনিজ বিনিয়োগ আসবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

২০১৪ সালের ১১ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় সে দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে আনোয়ারা উপজেলায় ৭৮৩ একর জমির ওপর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বেজা সূত্র জানায়, দেশের উদীয়মান ও রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ইলেট্রনিক্স পণ্যসামগ্রী, ফার্নেস অয়েল ও সিমেন্ট শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এতে ৩৭১টি শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯ কিলোমিটার, শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল অবস্থিত।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় স্পেশাল ইকোনমিক জোনের ভূমি উন্নয়ন করবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। এ চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চায়না ইকোনমিক জোন ভূমি উন্নয়ন এবং লিজ চুক্তি করবে বেজা।

এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে চায়না ইকোনমিক জোনের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করেছিল বেজা। চুক্তি অনুযায়ী, সরকারের ৩০ শতাংশ ও চীনা বিনিয়োগকারীদের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, ইকোনমিক জোন তৈরিতে অনেকগুলো ধাপ আছে। চায়না ইকোনমিক জোনের শেয়ার হোল্ডিং চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ আরেক ধাপ এগিয়েছে। ভূমি উন্নয়ন করার জন্য চায়না হারবার কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে চায়না ইকোনমিক জোন স্থাপন কার্যক্রম আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

উল্লেখ্য, চায়না হারবার এর আগে বাংলাদেশে বেশকিছু উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত ছিল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজও পেয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়া, পায়রা বন্দরের অবকাঠামো, তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনের এ নির্মাতা সংস্থাটি।

এসইজেড স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের জুন মাসে বেজা ও চায়না হারবারের শেয়ার হোল্ডিং চুক্তি হয়েছিল। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এবং চায়না হারবারের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেন চোয়ান সোং নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উপস্থিত ছিলেন।

বেজার সূত্র জানায়, এই প্রথমবারের মতো জি টু জি ভিত্তিতে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে এসইজেড স্থাপন করতে যাচ্ছে। এই জোনের পুরোটাতেই চীনা বিনিয়োগ থাকবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জোন তৈরির মূল কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ও ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে বেজা আশা করছে। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের জন্য পৃথক দুটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

জানা যায়, কালাবিবি দিঘী এলাকার চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ফকিরখিল এলাকায় সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে চীন সরকারের কাছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছে। এই টাকায় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা, বিদ্যুতের সাব স্টেশন, এলএনজি টার্মিনাল, কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট এলাকা থেকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আনোয়ারায় শিল্প জোন সংযুক্ত সবগুলো সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও বেজার জন্য ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

 

ঢাকা/হাসনাত/রফিক


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সুরের মূর্ছনায় হেমন্তের রজনী

২০১৯-১১-১৬ ১:১৮:৫৭ এএম