ভাইরাল হওয়া সেই চিকিৎসকের গল্প

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১০ ৩:৫৯:৫০ পিএম
মাহমুদুল হাসান মিলন | রাইজিংবিডি.কম

নতুন রোগী এক হাজার টাকা। পুরাতন ৫০০। রিপোর্ট দেখানোর জন‌্য ৩০০ টাকা। ডাক্তারের চেম্বারে গেলে এমন চার্ট হরহামেশা দেখা যাবে।

প্রাইভেট প্র্যাকটিসের নামে দেশজুড়ে খোলা হয়েছে সেবার দোকান ঘর। যেখানে সেবা বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল‌্যে। তবে কিছু ব‌্যতিক্রম থাকেই। তেমনই এক ব‌্যতিক্রম ব‌্যক্তি হলেন ডা. গণপতি আদিত‌্য।

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তিনি।

২০ বছর ধরে নিজ উপজেলায় নামমাত্র ফিস কিংবা বিনা পয়সায় হতদরিদ্র রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেককে আর্থিক সহযোগিতাও করছেন।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কুণ্ডল বালিয়া গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম মৃত্যুঞ্জয় আদিত্য। মা সুনীতি আদিত্য। বাবা ভূমি কর্মকর্তা। ছয় ভাই-বোনের মধ‌্যে গণপতি আদিত্য চার নম্বর।

রংপুর মেডিক‌্যাল কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন গণপতি। বিসিএস দিয়ে চিকিৎসক হন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সাদামাটাভাবেই চলছে সদা হাস্যোজ্জল এই চিকিৎসকের জীবন।

নিজ এলাকার মানুষের সেবার জন‌্য তিনি খোলেন চেম্বার। হাসপাতালে ডিউটি শেষ করে সেখানেই রোগী দেখেন।

তার চেম্বারে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে একটি চার্ট। যেখানে লেখা যাদের জন্য ফিস দেয়ার প্রয়োজন নেই-

১. আমার সরাসরি সম্মানিত শিক্ষকগণ

২. বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরঙ্গনা ও তাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান (প্রথমবার অবশ‌্যই পরিচয়পত্রের কপি দিতে হবে)

৩. ভিক্ষুক ও হতদরিদ্র জন

৪. কবি (কমপক্ষে একটি প্রকাশিত কবিতার বই থাকতে হবে এবং এক কপি প্রদান করতে হবে)

 এ ছাড়া সেখানে আরো লেখা আছে, অন‌্যান‌্য ক‌্যাটাগরি ডাক্তারের নিজস্ব বিবেচনায় আছে।

সম্প্রতি এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। আর এ বিষয়টি চিকিৎসক গণপতি আদিত‌্যর নজরেও আসে। তবে বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না তিনি নিজেই।

এ বিষয়ে গণপতি আদিত্য বলেন, ‘আমি কর্মের মধ্যেই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই, প্রচারে নয়।’

চিকিৎসক গণপতি আদিত্যের মহানুভবতায় উচ্ছ্বসিত তার সহকর্মীরা। রোগীদের মুখেও প্রশংসিত এই চিকিৎসক।

আলোচিত এই চিকিৎসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান তিনি। নাছোড়াবান্দা হয়ে লেগে থাকায় অবশেষে কথা বলতে রাজি হন তিনি।

রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘প্রচারে মানুষের মধ্যে আত্মঅহংকার চলে আসতে পারে। নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রচারের স্বার্থকতা তখনই আসবে, যখন আমার এই কাজটা আরো অনেক চিকিৎসকই করবেন।’

ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর থাকতে কেন উপজেলা শহরে রোগী দেখেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ফুলপুর উপজেলায় আমার বাড়ি। এখানকার সাধারণ মানুষ শহরের বিত্তবানদের ভিড়ে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। আর শহরের লোকজন এখন অনেক স্বাস্থ‌্য সচেতন। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো তেমন সচেতন না। আমার গ্রামের সহজ সরল মানুষেরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে দূরে থাকে। তাই অসহায় গরিব মানুষকে সেবা দেয়ার জন‌্যই এখানে চেম্বার করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘শতকরা আশি ভাগ রোগীকে আমি যতদূর সম্ভব কম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। ফলে তারা অল্প খরচে চিকিৎসা পান। আমাদের দেশের পল্লী চিকিৎসকরা নিজের পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু আমি এটা নিয়ে গর্ব করি। আমি গ্রামের মানুষের ডাক্তার, পল্লী চিকিৎসক হিসেবেই সারাজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।’

তার মতো অন্য চিকিৎসকরাও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ালে ডাক্তারি পড়ার স্বার্থকতা আসবে বলে মনে করেন তিনি।

হৃদরোগ প্রতিরোধে নিজস্ব পরিকল্পনার কথাও জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত হৃদরোগ প্রতিরোধ নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম শুরু করব।’

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের রেজিস্টার ডাক্তার বিশ্বনাথ সাহা বলেন, ‘গণপতি স্যার অত্যন্ত ভালো মানুষ। তার কাছ থেকে চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক কিছু শেখার আছে। অনেকেই আছেন যারা তার কাছে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছেন। পরবর্তীতে সুস্থ হয়েও তারা কৃতজ্ঞতাবশত তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।’

একই বিভাগের আরেক চিকিৎসক ইয়াসমিন আরা পারভিন বলেন, ‘স্যারের কাছ থেকে আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের সাথে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে রোগীদের আপন করে নিতে হয় তা শিখি। তিনি শুধু ভালো চিকিৎসকই নন, একজন ভালো মানুষও।’

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মজিবর রহমান বলেন, ‘স্যার আমাদের এ অঞ্চলের সবার প্রিয়। অসহায় রোগীদের কাছ থেকে কোনো ফিস নেন না তিনি।’

ফুলপুর পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তার গণপতি আদিত্য আমাদের ফুলপুরের গর্ব। সব ডাক্তার যদি তার মতো নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সেবা দিতেন, তাহলে আমাদের দেশটা আরো মানবিক হয়ে যেত।’


ময়মনসিংহ/মিলন/ইভা


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ক্লাসিকোর আগে হোঁচট খেল বার্সা

২০১৯-১২-১৫ ১২:৪৬:৪০ এএম

মিস ওয়ার্ল্ড হলেন মিস জ্যামাইকা

২০১৯-১২-১৫ ১২:২২:৩৬ এএম

সান্তোকির নো বল আইসিসি ‘দেখছে’

২০১৯-১২-১৪ ১০:৫২:৫৮ পিএম

মাশরাফি-হাসান-এনামুলে ঢাকার জয়

২০১৯-১২-১৪ ১০:৪৯:১৬ পিএম

‘পরিচালকের টয়লেটও কি এমন নোংরা’

২০১৯-১২-১৪ ১০:০৭:৫৪ পিএম