বিনা দোষে ৩৭ দিন দুলাভাইয়ের স্থলে শ্যালক কারাগারে

প্রকাশ: ২০২০-০৩-০১ ১০:৫৪:৩৯ এএম
মামুন খান | রাইজিংবিডি.কম

দুলাভাই দিলা ব্যাপারী ও শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলু

সম্পর্কে শালা-দুলাভাই কিন্তু তা মোটেও মধুর নয়। পারিবারিক বিরোধের কারণে নিরাপরাধ শ্যালককে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন এই দুলাভাই। নিজের স্থলে শ্যালককে ঢুকিয়ে দিয়েছেন কারাগারে।

কীভাবে? সেটাই শুনুন এবার- ২০১২ সালে রাজধানীর সবুজবাগ থানার পুলিশকে গুলি ছোঁড়ার সময় ঘটনাস্থলে গ্রেপ্তার হন চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ওলিপুর গ্রামের মৃত নেয়াব আলী ব্যাপারীর ছেলে দিলা ব্যাপারী। ওই সময় তিনি নিজের নাম গোপন করেন। শ্যালক ধলু’র নামকেই নিজের নাম এবং নিজের পিতার নামের স্থলে ধলুর পিতা বেলায়েত আলী সরকারের নাম উল্লেখ করেন।

মামলাটিতে ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল দিলা ‘ধলু নামে’ হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। এরপর তিনি পলাতক হন। পলাতক থাকায় মামলাটির বিচারিক আদালত ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মুখ্য মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানায় গত ২৩ জানুয়ারি মতলব উত্তর থানা পুলিশ নামের কারণে প্রকৃত আসামি দিলা ব্যাপারীর স্থলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলুকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি গত ৩৭ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।

এ ঘটনা জানিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলুর আইনজীবী মাসুদ এ চৌধুরী।  এ  আইনজীবী জানান, পুলিশ যথাযথ তদন্ত না করে চার্জশিট দাখিল করেছে। আর সেই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আর এভাবেই নিরাপরাধ ধলু কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

আইনজীবী মাসুদ এ চৌধুরী বলেন, ‘একজন আসামি গ্রেপ্তারের পর ভুল নাম ঠিকানা দিতে পরেন। কিন্তু তা তদন্তের সময় নাম-ঠিকানা যাচাইয়ে বেরিয়ে আসার কথা। কিন্তু এ মামলায় তেমনটি দেখা যায়নি। যে নামে মামলা হয়েছে, সেই নামেই চার্জশিট হয়েছে। তাই এখানে তদন্তে নাম-ঠিকানা যাচাইকারী পুলিশ সদস্যের গাফিলতি ছিল বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার কারণে একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি এখন জেল খাটছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মুখ্য মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলুর কারামুক্তির জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছি। আদেশের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।’

এ সম্পর্কে দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলুর মেয়ের জামাই আরিফ বলেন, ‘আসামি দিলা ব্যাপারী এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধলু সম্পর্কে শালা- দুলাভাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তাই হয়তো দুলাভাই শালাকে ফাঁসানোর জন্য শালার নাম মামলায় নিজের বলে বলে চালিয়ে দিয়েছেন।’

আরিফ বলেন, ‘প্রকৃত আসামি দিলা ব্যাপারী একজন ডাকাত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক মামলা আছে। তাই সে এলাকায় আসে না।’ 

আদালতের নথি থেকে দেখা যায়, জনৈক নিপু সরকার ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সবুজবাগ থানায় এই মর্মে মামলা করেন যে, সবুজবাগ থানাধীন ২০, মায়াকানন জমজমাট রেস্টুরেন্ট এন্ড মিনি চাইনিজের সামনের রাস্তায় ৩ জন লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বাদী ও তার সহোযোগী সুমন একজনকে এবং পুলিশ আরেকজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে একজন নিজের নাম রমজান আলী ওরফে জাবেদ আলী ওরফে মোহাম্মাদ আলী বলেন। অপরজন নিজের নাম ধলু (৪০), পিতা- বেলায়েত আলী সরকার, সাং+পো. ওলিপুর. থানা- মতলব উত্তর, জেলা-চাঁদপুর বলে উল্লেখ করেন। সে অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠায় ঢাকা সিএমএম আদালত। ওই মামলায় ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল ধলু হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়ে পলাতক হন। ২০১৪ সালের ১৩ মে ওই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে ওই নাম ঠিকানায় চার্জশিট দাখিল হয়। মামলাটি বর্তমানে চার্জশুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে রোববার মামলাটিতে ধলুর কারামুক্তির বিষয়ে আদালত আদেশ দিতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

 

ঢাকা/মামুন খান/টিপু


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করলো চীন

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩৪:৪৯ এএম

করোনায় তুরস্কে আরো কড়া বিধিনিষেধ

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩২:০২ এএম

সাবার শুটিংয়ের স্মৃতি রোমন্থন

২০২০-০৪-০৪ ১০:০১:০২ এএম

বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

২০২০-০৪-০৪ ৯:৫২:৩৮ এএম

আপনি জানেন কি?

২০২০-০৪-০৪ ৯:৩৫:০৫ এএম

নবাব ফয়জুন্নেসা কেন অন্তরালে?

২০২০-০৪-০৪ ৯:২১:১৭ এএম

‘এমনি এমনি কি মানুষ আদালতে আসে’

২০২০-০৪-০৪ ৯:১২:২৯ এএম