বদলে যাচ্ছে পোশাক খাত, কমছে অর্ডার

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৪ ২:২১:৪৫ পিএম
হাসান মাহামুদ | রাইজিংবিডি.কম

করোনার কারণে দেশের পোশাক খাতের চিত্র বদলে যাচ্ছে।  ভাইরাসের কবলে পড়ে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ শিল্পে দিন দিন কমে যাচ্ছে অর্ডারও। কাঁচামালের অভাবে বন্ধের উপক্রম হয়েছে অনেক কারখানা। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট ও মাঝারি মানের কারখানাগুলো।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সাত বছরে শুধুমাত্র পোশাকখাত ঘিরেই দেশে দুই হাজারের বেশি ছোট কারখানা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কারখানা সাব-কন্ট্রাক ও মিডিয়া হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু করোনার কারণে আমদানি বন্ধ হওয়াসহ সোর্স-প্রোডাক্টের অভাবে এ খাতের উদ্যোক্তারা এখন প্রায় কর্মহীন।

সাধারণত পোশাকখাত ঘিরে যেসব ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে, তাদের অধিকাংশই কিছু কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডারভিত্তিক কাজ করতো, কোনো কোনো কারখানার কাজ ছিলো বিভিন্ন উপকরণ সাপ্লাই দেওয়া। কিন্তু ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমেছে। ফলে এসব ছোট কারখানার কাজ কমে গেছে। আবার লোকাল মার্কেটের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান পণ্যপ্রস্তুত করতো, তাদের খুব বেশি কাঁচামাল মজুদ থাকে না। সাধারণত মাসখানেকের মজুত নিয়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কাজ চালায়। কিন্তু বিশেষ করে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর দেশে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

বাড্ডায় অবস্থিত এ ধরনের একটি কারখানার মালিক আব্দুর রহিম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘চীন থেকে কাঁচামাল আসা কমে যাওয়ার পর দাম কিছুটা বাড়ে। তখরনা কাজ চালানো যাচ্ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে কাঁচামাল আসা প্রায় বন্ধই হয়ে যায়।’

আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমি ডেনিম নিয়ে কাজ করি, তাই এখনো কাজ চালাতে পারছি। কিন্তু এ মাসের পর কারখানা বন্ধই রাখতে হবে। আর সেই বন্ধ কয়দিনের জন্য হয় বুঝতে পারছি না।’

আশকোনার ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিনের ছোট কারখানার পাশাপাশি স্টক-লট ব্যবসা রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি শুধু স্টক-লটের কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ তার নতুন কোনো অর্ডার নেই।

হাফিজ উদ্দিন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘যেসব কিডস আইটেম নিয়ে আমি কাজ করি তার বেশির ভাগ এশিয়ান মেজারমেন্টের। তাই আশা করেছিলাম বাইরের বায়ার না পেলেও লোকাল মার্কেটে সেল (বিক্রি) থাকবে।  কারণ ঢাকায় বেশকিছু অনলাইনের সেলার আমার নিয়মিত বায়ার ছিল। কিন্তু এখন তো অনলাইন সেলও অনেকটা বন্ধ। এই অবস্থায় ইনভেস্ট আটকে আছে।’

ছোট কারখানাগুলোর মধ্যে হস্তশিল্প এবং কারুশিল্পকেন্দ্রিক যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে।  করোনার কারণে এ ধরনের কারখানায়ও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  তবে তা তুলনামূলক কম হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবদ আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ছোট কারখানা দেশের জন্য ভালো।  তবে আমাদের এখানে সমস্যা হচ্ছে- উদ্যোগগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসংগঠিত।  একটি শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য যে ধরনের সংগঠিত তৎপরতা থাকা দরকার, তেমন নয়।  তবে ব্যবসায়িকভাবে দেখা যায় এদের সফলতার হার ভালো। এমনকি এ ধরনের কারখানার আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হয়েছে। সরকারের উচিত এ ধরনের উদ্যোগকে সহযোগিতা করা।

অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও বলেন, ‘করোনার প্রভাব দেশের পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে।’ তবে, ছোট কারখানার জন্য এই ধাক্কা খুব বেশি প্রবল হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


ঢাকা/হাসান/জেডআর


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করলো চীন

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩৪:৪৯ এএম

করোনায় তুরস্কে আরো কড়া বিধিনিষেধ

২০২০-০৪-০৪ ১০:৩২:০২ এএম

সাবার শুটিংয়ের স্মৃতি রোমন্থন

২০২০-০৪-০৪ ১০:০১:০২ এএম

বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

২০২০-০৪-০৪ ৯:৫২:৩৮ এএম

আপনি জানেন কি?

২০২০-০৪-০৪ ৯:৩৫:০৫ এএম

নবাব ফয়জুন্নেসা কেন অন্তরালে?

২০২০-০৪-০৪ ৯:২১:১৭ এএম

‘এমনি এমনি কি মানুষ আদালতে আসে’

২০২০-০৪-০৪ ৯:১২:২৯ এএম