বাড়ছে সংখ্যা ও শঙ্কা

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ৫:০১:৫৮ পিএম
আরিফ সাওন | রাইজিংবিডি.কম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে ১২ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরো ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট করোনা-আক্রান্ত মানুষ এখন ১২৩ জন।

গতকাল ৫ এপ্রিল আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮ জন। মৃত্যু হয়েছিল একজনের। তার আগে ৪ এপ্রিল ৯ জন ও ৩ এপ্রিল ৫ জন করোনা-আক্রান্তের খবর জানানো হয়।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সেই থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৬১ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে আইইডিসিআর।

৪ এপ্রিল থেকে দেশে করোনা রোগী লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। ৪ এপিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর হারও বাড়তে শুরু করেছে। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ছয়জন মারা যান। ৪ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হলো।

দিন দিন দেশে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত মানুষ ও মৃতের সংখ্যা। সেই সঙ্গে জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।

রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা আক্তার বলেন, এই তিন-চার দিনে যেভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে, তাতে শঙ্কায় আছি। আগামীতে কী হবে? অন্যান্য দেশের খবর তো দেখছি। তাতে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।

গাইবন্ধার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে মানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিল যে, এই দেশে সেভাবে কেউ করোনায় আক্রান্ত হবে না। কিন্তু দুই দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় আমাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চললে আমরা হয়তো কম ক্ষতির সম্মুখীন হবো।

বাগেরহাটের কামরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য উন্নত দেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। আমরা যে কতটুকু পারব, তা বুঝছি না। এখন থেকে আর বাড়ির বাইরে যাব না।

বাগেরহাটের নরেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা ভ্যানচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভ্যান না চালালে কী খাব? ভয় তো লাগেই। কিন্তু খাওয়ারও তো ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে থাকার বিকল্প নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ বলেছেন, এখন প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রতিরোধ করা। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে, ম্যাপিং করতে হবে। যেহেতু কমিউনিটিতে ছড়িয়েছে, তাই আমরা বুঝতে পারছি না যে কী পরিমাণ মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামনে কোনদিকে যাবে সে বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে দল-মত নির্বিশেষ সবার এক হয়ে কাজ করতে হবে। একলা চলো নীতিতে এগোলে কোনোভাবেই হবে না। পুলিশ দিয়ে সবাইকে মোটিভেট করা সম্ভব না। প্রতিটি এলাকার রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ত করতে হবে। মানুষ যাতে ঘরে থাকে, সেজন্য যারা দিন আনে দিন খায় তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সোমবার প্রেস বিফিংয়ে বলেছেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, উন্নত কিংবা অনুন্নত দেশ যারাই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছে তাদেরকে এখন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীরা প্রতিদিন যেভাবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অযথা বাক্যবাণ নিক্ষেপ কিংবা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্ববিরোধী বক্তব্য ও মন্তব্য করছেন, তাতে মনে হয়, সরকার এখনো পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলদ্ধি করতে পারছে না। আপনারা দেখছেন, এখানে-সেখানে মানুষের মরদেহ পড়ে থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এটি শুভ লক্ষণ নয়।

পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে পরিমাণে জনসমাগম হলো, তা সত্যিই আতঙ্কের। আমাদের মনে ভয় জাগছে। জানি না, আমরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি কি না।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সব সময় বলা হচ্ছে, ঘরে থাকতে। মানুষ যাতে ঘরে থাকে, সেজন্য সারা দেশে কাজ করছে প্রশাসন।

সোমবার সকালে দেখা গেছে, বাগেরহাট শহরে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি অরোপ করা হয়েছে। কারণ জিজ্ঞেস করে শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। শুধু বাগেরহাট নয়, সারা দেশেই এখন ঘরের বাইরে বের হলে কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে।

গতকাল অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা জানি, আমাদের দেশে আগের চেয়ে সংক্রমণ একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনাদের সকলের এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মেনে চলা উচিত। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, মন্ত্রণালয় এবং ডিজি অফিস যেটা বলছে, সেটা মেনে চললে ইনশাআল্লাহ আমরা এই করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করব এবং আমাদের এই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করতে পারব।

সোমবার করোনা নিয়ে এক জরুরি সভায় নিমসের পরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদ বর্তমান পরিস্থিতে তার উদ্বেগ জানিয়ে এখনই শক্ত অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর জানান, দেশে সামনে কঠিন সময় আসছে। এখনই পুরো দেশে লকডাউন করা জরুরি। এখনই পুরো দেশ লকডাউন না করা হলে এ ভাইরাস আগামী ১০ দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।


ঢাকা/সাওন/রফিক


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

নতুন মাইলফলকে রিয়েলমি

২০২০-০৬-০২ ৭:৪২:১৪ পিএম

অভিনেতার আকুতি

২০২০-০৬-০২ ৭:৩৮:১৯ পিএম

ঝালকাঠিতে যাত্রী নেই গণপরিবহনে

২০২০-০৬-০২ ৭:২৬:০২ পিএম

মহামারির শেষে

২০২০-০৬-০২ ৬:৪৯:১৬ পিএম