করোনা দুর্যোগেও থেমে নেই শুল্ক স্টেশনগুলো

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১২ ১১:৩৮:০৭ এএম
এম এ রহমান মাসুম | রাইজিংবিডি.কম

মহামারি করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগেও থেমে নেই দেশের শুল্ক স্টেশনগুলো। করোনার প্রার্দুভাবে স্থবির হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলোতে আবার ফিরে পাচ্ছে কর্মচঞ্চল রূপ।

এক সময় আমদানি-রপ্তানি কমে গেলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিনিময় হতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য পণ্য সামগ্রী। আসা-যাওয়া করছেন যাত্রীরাও।বর্তমানে ৩২টির মতো শুল্ক স্টেশন সীমিত আকারে কার্যকর হতে শুরু করেছে।

তবে ভারতে লকডাউন থাকায় কিছু স্টেশন দিয়ে এখনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে না। লকডাউন স্থিতিশীল হলে আবারও সরব হবে সব স্টেশন দাবি এনবিআর কর্মকর্তাদের।

বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনগুলোর মধ্যে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কুমিল্লার বিবির বাজার ও ফেনীর বিলুনিয়া তিনটি শুল্কস্টেশন রয়েছে। শুল্কস্টেশন দিয়ে সয়াবিন তেল, কয়লা, সিমেন্ট, খাদ্যসামগ্রী, শুঁটকিসহ বেশকিছু পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তবে আখাউড়া স্টেশন দিয়ে রপ্তানি বাড়লেও পণ্য আমদানি হচ্ছে না। এছাড়া যাত্রী যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট সূত্র জানায়, আখাউড়া এলসি স্টেশন দিয়ে ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো পণ্য আমদানি না হলেও রপ্তানি হয়েছে। এ সময় রপ্তানি হয়েছে সয়াবিন তেল ২৯৩.৪০ মেট্রিক টন, শুঁটকি মাছ ৫৩.২০ মে. টন, কয়লা ১২৯৮.৭৩ মে. টন ও সিমেন্ট ৬৪০ মে. টন। এ স্টেশন দিয়ে ১ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২১৬২ মে. টন কয়লা ও ১৫৬০ মেট্রিক টন সিমেন্ট রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি হয়েছে ৮৫ মেট্রিক টন সয়াবিন, ৫ মেট্রিক টন স্প্রিড পিট বোতল, ৪ মেট্রিক টন ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, ৫ মেট্রিক টন নুডুলস, ৮ মেট্রিক টন শুঁটকি, ৫ মেট্রিক টন সেমাই, ১০৩ মেট্রিক টন স্টিল সিট ইন কয়েল, ১৩ মেট্রিক টন লিচি ড্রিংকস ও ১২০ মেট্রিক টন পাথর। এ সময় ভারত থেকে যাত্রী এসেছে ৬৬ জন।

অন্যদিকে বিবির বাজার স্টেশন দিয়ে ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ মেট্রিক টন তেঁতুল আমদানি ও ৩৫০ মেট্রিক টন সিমেন্ট, ১৯৯ মেট্রিক টন কয়লা রপ্তানি হয়েছে এবং ১ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ২০ মেট্রিক টন আদা, ২৫ মেট্রিক টন বেল ও ২০ মেট্রিক টন তেঁতুল আমদানি হয়েছে। আর রপ্তানি হয়েছে ২৪০ মেট্রিক টন সিমেন্ট ও ১২৪ মেট্রিক টন স্টিল শিট ইন কয়েল। তবে বিলুনিয়া শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, সাধারণ ছুটির প্রথম থেকেই সীমিত পরিসরে শুল্ক স্টেশন খোলা ছিল। সেসময় খুব একটা আমদানি-রপ্তানি হয়নি। তবে কিছু যাত্রী ভারত থেকে এসেছে, যারা বিভিন্ন সময় ভারত গিয়েছে। তবে পুরোধমে চালুর পর আমদানি-রপ্তানি বেড়ে গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে, দূরত্ব বজায় রেখে সেবা দিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অধীনে রয়েছে দর্শনা শুল্ক স্টেশন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার এ স্টেশন দিয়ে দু’দেশের মধ্যে রেলযোগাযোগের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি হয়। সাধারণ ছুটি এবং ভারতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় আমদানি-রপ্তানি। সম্প্রতি বাংলাদেশ অংশে সরকার আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে পুরোদমে চালু করে কাস্টমস হাউস ও শুল্কস্টেশন। বাংলাদেশ অংশে স্টেশন চালু হলেও ভারতে লকডাউন থাকায় রেল যোগাযোগ বন্ধ।

তবে সীমিত পর্যায়ে চলাচল ঘোষণায় ৯ মে ভারত থেকে ৪০ বগিতে ১০৪৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দর্শনা স্টেশনে এসে পৌঁছায়।

এ বিষয় যশোর ভ্যাট কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা পুরো প্রস্তুত। কিন্তু ভারতে লকডাউন থাকায় আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে না। রেলওয়ে থেকে প্রস্তুতি নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছে। পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে আবার সচল হচ্ছে এ স্টেশন।

অন্যদিকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরে অবস্থিত বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। প্রতিদিন এইপথে চলাচল করেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। লকডাউনের কারণে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৫ হাজার কর্মী করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। রক্ষা পেয়েছে ওই এলাকার প্রায় আরও দুই লাখ মানুষ। বর্তমানে ভারত থেকে পণ্য প্রবেশ না করায় বাণিজ্য সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ খোলা আছে এবং বন্দর পণ্যগার থেকে পূর্বেও আমদানিকরা পণ্য কেউ খালাস নিতে চাইলে তা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, করোনার মতো সংক্রমণব্যাধির জন্য সীমান্তবর্তী এ এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা করোনার বিষয়ে প্রথমে গণমাধ্যমে জানতে পারি। তারপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই।এজন্য কাস্টমস হাউজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমরা এবং আশপাশের সবাই এখনও সুস্থ আছি।

সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সিলেটে ১৩টি এলসি স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে বেশিরভাগ আমদানি হয় কয়লা, পাথর, ফল ও কিছু কৃষ্টি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। আর রপ্তানি হয় ওষুধ, কিছু খাদ্য পণ্য, সিরামিক পণ্য, স্যানিটারিওয়্যার, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি। গত সপ্তাহে শেওলা শুল্ক স্টেশন চালু হয়েছে। আরও দুইটি শুল্ক স্টেশন চালু হওয়ার পথে।

সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট সূত্র জানায়, সিলেটের শুল্ক স্টেশনসমূহ মূলত আমদানি নির্ভর। রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। ভারত থেকে প্রধানত কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি হয়। ভারতের আসাম, ত্রিপুরাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে এসব পণ্য ট্রাকে করে শেওলা শুল্ক স্টেশনে এসে ট্রাক পরিবর্তন হয়ে সিলেটে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া তামাবিল, ছাতক, ইছামতি, ভোলাগঞ্জ, চেলা, জুড়ি, জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে কিছু পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।

রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন ছয়টি শুল্ক স্টেশন, ৫টি শুল্ক করিডোর ও ১৫টি শুল্ক গুদাম রয়েছে। ছয়টি স্টেশনের মধ্যে বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী, হিলি, সোনাহাট, বিরল ও চিলমারী দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।

রংপুর ভ্যাট কমিশনার শওকত আলী সাদী বলেন, ছয়টি শুল্ক স্টেশনে ভ্যাট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এসব স্টেশন বাংলাদেশ অংশে চালু থাকলেও ভারতে লকডাউন থাকায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।


ঢাকা/রহমান/এসএম


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

জেদ্দায় আবারও কারফিউ

২০২০-০৬-০৫ ৮:৪০:৩৬ পিএম