ছাঁটাইয়ের কারণে দীর্ঘ হচ্ছে কাতারফেরত প্রবাসীর তালিকা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৪ ১২:৫৭:২০ এএম
হাসান মাহামুদ | রাইজিংবিডি.কম

করোনাকালে কাতারে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কর্মহীন বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। কারণ, কাতারে কথিত ফ্রি ভিসায় কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ফলে কাতার থেকে অনেক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হচ্ছে।

করোনার কারণে কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার কোনো প্রভাব পড়বে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের তৃতীয় সচিব এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে কথিত ফ্রি ভিসার পাশাপাশি অনেক অবেতনভুক্ত কর্মী এবং ক্ষদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া, কিছু কোম্পানি বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাই করছে। এর ফলে দেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশিদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।’

মনিরুজ্জামান চৌধুরী আরো বলেন, ‘বেশকিছু কারণে ইতোমধ্যেই কাতারের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন হচ্ছে। অন্যতম পরিবর্তন হলো—কাতারের শ্রমবাজারে অদক্ষ কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। কাতার সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কাতারও পড়বে। এ কারণে অনেক কোম্পানি তাদের খরচ কমানোর জন্য হয় কর্মী ছাঁটাই করবে, না হয় কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেবে।’

তিনি জানান, ফ্রি ভিসার কর্মীরা নামসর্বস্ব কোম্পানিতে কাজ করে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা কর্মহীন হলে সেসব কোম্পানি বা তাদের সাপ্লাই কোম্পানি কথিত ফ্রি ভিসার কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। কাতার সরকার এ বিষয়টিকে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখবে এবং ভবিষ্যতে কথিত ফ্রি ভিসার লোকদের এবং সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে আরো কিছু বাংলাদেশি কর্মী কাজ হারাবে।

এদিকে, কাতার প্রবাসীদের একান্ত বাধ্য না হলে দেশে ফিরে না যেতে দূতাবাস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, দূতাবাস মনে করে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনেকেই হয়তো নিয়মিত কাজে ফিরে আসবে। কিন্তু কাতার থেকে চলে গেলে তাদের জন্য কাতারে আবার ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে দোহা দূবাতাস জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, কাতার কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, কাতারে মোট ৪ লাখ ১৬ বাংলাদেশি আছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান। তৃতীয় অবস্থানে আছে নেপাল। তবে কতজন প্রবাসী দেশটি থেকে ফিরতে পারেন, তার পরিসংখ্যান এখনো চূড়ান্ত নয়।

কাতারে কর্মহীন বাংলাদেশির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় দূতাবাস থেকে অর্থ বরাদ্দের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসের অনুকূলে দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কাতার চ্যারিটি দুই দফায় ১ হাজার প্যাকেট খাবার কাতারে বসবাসরত অসহায় বাংলাদেশি পরিবার এবং কর্মীদের জন্য প্রদান করে। এছাড়া, বাংলাদেশ কমিউনিটির অনেক বিত্তবান মানুষ অসহায় প্রবাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। প্রকৃত অসহায় কর্মীদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য দূতাবাস থেকে ইতোমধ্যে ওয়েবভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন আহ্বান করা হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি প্রবাসী রেজিস্ট্রেশন করেছে। রেজিস্ট্রেশন তালিকার ক্রমানুসারে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। যারা দূতাবাসে এসে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারছেন না, তাদের কাছে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

ফ্রি ভিসা কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে অবৈধ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রি ভিসার কর্মীদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য কাতার সরকারকেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে দূতাবাসের নিয়মিত কার্যক্রমে বেশকিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সচেতন করা এবং বাংলাদেশ ও কাতার সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ নিয়মিত প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বর্তমানে এটি অব্যাহত আছে। কাতার সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এবং জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দূতাবাসের নিয়মিত কনস্যুলার সেবা দেওয়া বন্ধ আছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতে প্রবাসী বাংলাদেশি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে জরুরি সেবা নিতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি কনস্যুলার সেবার জন্য আলাদা আলদা মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে।

এছাড়া, দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মাহবুব রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে কাতারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত পাসপোর্ট ডেলিভারিসহ সকল নিয়মিত কনস্যুলার সেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি জানান, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, পাসপোর্ট রিইস্যু, জন্ম সনদ, ডকুমেন্ট সত্যায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অনলাইন আবেদনের জন্য দূতাবাসের ওয়েবসাইট (www.bdembassydoha.org) ভিজিট করতে হবে।

কাতারে এ পর্যন্ত (১৩ মে) ২৫ হাজার ১৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি আছেন তার হালনাগাদ তথ্য কাছে নেই। এ পর্যন্ত কাতার সরকার এ সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, কাতারে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।


ঢাকা/হাসান/রফিক


     




আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

চঞ্চলের অপেক্ষা

২০২০-০৬-০৬ ১২:৫১:০২ পিএম

প্রযোজক অনিল সুরি আর নেই

২০২০-০৬-০৬ ১১:৪২:১০ এএম