ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কর্টানার কিছু ব্যবহার

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৬ ৪:৩৫:১৮ পিএম
মোখলেছুর রহমান | রাইজিংবিডি.কম

মোখলেছুর রহমান : উইন্ডোজ ১০-এর দারুন একটি ফিচার ভার্চুয়াল পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘কর্টানা’। আমরা যারা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করি তারা জানি ডিভাইসকে ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে চালনা করা কতই মজার ও কাজ সহজ করে দেয়। উইন্ডোজ ১০ চালিত ডিভাইসেও টাইপ বা ভয়েস কমান্ড দিয়ে নানা সেবা পাওয়া যায় কর্টানার কাছ থেকে। মাইক্রোসফটের এই ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছ থেকে আপকামিং মিটিং, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে সার্চ, আবহাওয়া, সংবাদ এবং ক্রীড়া সহ নানা বিষয়ে আগাম বার্তা পাওয়া যায়। তবে আপনার উইন্ডোজ ১০ এ এই আধুনিক সেবাগুলো পেতে আপনাকে এর সর্বোত্তম ব্যবহারগুলো জানতে হবে। এ প্রতিবেদনে কর্টানার কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবহার তুলে ধরা হলো।

আপনার অ্যাকাউন্ট, অ্যাপ এবং পরিষেবাগুলো কর্টানার সঙ্গে সংযুক্ত করুন

কর্টানার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত একটি বড় উপায় হলো, এটিকে কোনো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ আপনার লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টটি আপনি কর্টানার সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন যাতে আপনি তখন কর্টানাকে কিছু করতে বলতে পারেন। আর সেক্ষেত্রে কর্টানা তখন সেই অ্যাকাউন্টে থাকা তথ্যের সন্ধান করতে এবং আপনার অনুরোধ সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য আপনাকে দিতে পারবে। স্পোর্টিফাই বা স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস নিয়ন্ত্রণ করার মতো পরিষেবার মাধ্যমে মিউজিক বাজানো সহ কর্টানা আরো বেশ কিছু কাজ করতে পারে। কর্টানা উইন্ডোজ ১০ এ ব্যবহৃত অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গেও কাজ করতে পারে। যেমন নেটফ্লিক্স বা হুলুতে কোনো অনুষ্ঠান সার্চ করা বা ফিটবিটকে আপনি কোনো নির্দিষ্ট দিনে কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জিজ্ঞাসা করা ইত্যাদি।

কর্টানার মাধ্যমে রিমাইন্ডার সেট করুন

কর্টানার অন্যতম দরকারি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আপনাকে আপনার কাজ এবং আসন্ন ইভেন্টগুলোর বিষয়ে মনে করিয়ে দিতে পারে। এতে রিমাইন্ডার সেট করা খুব সহজ। কর্টানাকে কেবল ‘রিমাইন্ড মি’ এ কথাটি বলুন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার সামনে রিমাইন্ডার সেট করার অপশনগুলো চলে আসবে। প্রদর্শিত স্ক্রিন থেকে ব্যক্তি, স্থান, সময় বা আপনি যে বিষয়টি স্মরণ রাখতে চান সেটি টাইপ করে ফর্মটি পূরণ করুন। আপনি যদি পছন্দ করেন তবে আপনি ফর্মটি বাইপাস করে ‘রিমাইন্ড মি অ্যাবাউট মাই টেনিস গেম টুডে অ্যাট ৬ পিএম’ এর মতো কিছু বলতে পারেন। অথবা আপনি কেবল ‘রিমাইন্ড মি বলতে পারেন এবং তারপরে যখন কর্টানা আপনাকে যা মনে করিয়ে দিতে হবে সে সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে তখন উত্তর দিলেই হবে। আর তাতে করেই আপনার রিমাইন্ডার সেট হয়ে যাবে।

কর্টানার সাহায্যে আপনার গুগল ক্যালেন্ডার পরিচালনা করুন

উইন্ডোজ ১০ এ একটি বিল্ট-ইন ক্যালেন্ডার অ্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাতে কর্টানার মাধ্যমেও নির্দেশ প্রদান করা যায়। আপনি যদি একজন গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারকারী হন তাহলে আপনি এটিকে পরিচালনা করার জন্য কর্টানাকে বেছে নিতে পারেন এবং আপনি আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট তৈরি করতে এবং সম্পাদনা করতে কর্টানা ব্যবহার করতে পারেন। এতে গুগল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে আপনার সময়সূচিটি আপনি যেমন ভাবে চান ঠিক সেভাবেই প্রদর্শন করতে পারবেন।

এটি করতে, আপনাকে প্রথমে আপনার গুগল ক্যালেন্ডারটি উইন্ডোজ ১০ ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ইন্ট্রিগেট করতে হবে। প্রথমে উইন্ডোজ ১০ এর সার্চ বাক্সে ‘ক্যালেন্ডার’ টাইপ করে ক্যালেন্ডার অ্যাপটি চালু করুন। তারপরে প্রদর্শিত ক্যালেন্ডার অ্যাপ আইকনটিতে ক্লিক করুন। এরপরে ক্যালেন্ডার স্ক্রিনের নিচের বামে সেটিংস আইকনটিতে ক্লিক করুন- আইকনটি একটি গিয়ারের আকারে। যখন সেটিংস মেন্যু আসবে তখন ম্যানেজ অ্যাকাউন্ট> অ্যাড অ্যাকাউন্ট- এই অপশনটি নির্বাচন করুন। প্রদর্শিত মেন্যু থেকে গুগলকে নির্বাচন করুন। এপর্যায়ে আপনাকে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে সাইন ইন করতে বলা হবে।

লক স্ক্রিনেও কর্টানা ব্যবহার করুন

কর্টানা ব্যবহার করতে আপনাকে উইন্ডোজটিতে লগইন করতে হবে না। আপনি লক স্ক্রিনের ডানদিকে থাকা এই ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টের যেকোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে সেটিংস>কর্টানা> টক টু কর্টানা- এই অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর লক স্ক্রিন বিভাগে নিচে স্ক্রোল করুন এবং স্লাইডারটি চালু করুন। এরপর সেটিংস থেকে এই অপশনটি খুঁজুন- ‘লেট কর্টানা অ্যাকসেস মাই ক্যালেন্ডার, ইমেইল, মেসেজে, অ্যান্ডা পাওয়ার বিআই ডেটা হোয়েন মাই ডিভাইস ইজ লকড।’ যদি এ ধরনের বার্তা না দেখতে পান তাহলে লক স্ক্রিনে কর্টানা আপনার জন্য সীমাবদ্ধ কিছু কাজই করতে পারবে। যেমন এক্ষেত্রে লক স্ক্রিনে আপনি মিউজিক শুনতে এবং আবহাওয়া বার্তা সার্চ করতে পারবেন। তবে আপনি রিমাইন্ডার সেট, ইমেইল প্রেরণ বা আপনার ক্যালেন্ডারে ইভেন্ট যুক্ত করতে পারবেন না।

কর্টানার অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার

কর্টানার মাধ্যমে এছাড়াও আপনি আরো বেশ কিছু কাজ সারতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

* ফ্লাইট নম্বর বা প্যাকেজ ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে কর্টানার মাধ্যমে আপনার প্যাকেজ বা ফ্লাইট ট্র্যাক করতে পারেন।

* আপনি কর্টানাকে ক্যালকুলেটারে হিসাব করার জন্য বলতে পারেন।

* আপনি কোনো ইভেন্টের জন্য পোস্টারের ছবি স্ন্যাপ করলে কর্টানা এতে তারিখগুলো শনাক্ত করা এবং আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আপনি এটিতে উপস্থিত থাকার জন্য কোনো রিমান্ডার তৈরি করতে চান কিনা।

কর্টানা আর যা যা করতে পারে সেগুলো সম্পর্কে জানতে শুধুমাত্র ‘হেল্প মি’ টাইপ করুন বা বলুন এবং আপনি তৎক্ষণাৎ কর্টানার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা পেয়ে যাবেন। তালিকার যেকোনো একটি ফিচারে ক্লিক করুন। ব্যস কর্টানা তার সেবা নিয়ে আপনার সামনে হাজির হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র : কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ আগস্ট ২০১৯/ফিরোজ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সোমবার ‘কালো রাত্রি’

২০১৯-০৮-২৫ ১২:০১:৩৭ পিএম

মওদুদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে

২০১৯-০৮-২৫ ১১:২৪:৪১ এএম

মাহি বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ

২০১৯-০৮-২৫ ১১:০২:৫৪ এএম

ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু

২০১৯-০৮-২৫ ১০:৩৮:৩৮ এএম

গ্যাস নিয়ে দিন-রাত কানামাছি

২০১৯-০৮-২৫ ৯:২৩:০২ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-০৮-২৫ ৮:৩৭:৫৯ এএম