করোনা বিপর্যয়ে বিনামূল্যে প্রিমিয়াম টাইম ট্র্যাকিং সফটওয়্যার

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৬ ৪:৪২:৩৯ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক | রাইজিংবিডি.কম

করোনা বিপর্যয়ে এগিয়ে এসেছে অ্যাপলয়ি ডটকম (https://apploye.com)। প্রতিষ্ঠানটি কর্মক্ষেত্রে সময় অপচয় রোধে এবং করোনার বিপর্যয়ে বাংলাদেশি সব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাসা থেকে কাজ করতে পারে, সে কারণে কর্মীদের টাইম ট্র্যাকিং করার প্রিমিয়াম সফটওয়্যার দিচ্ছে বিনামূল্যে। সম্প্রতি করোনায় অনেক কোম্পানি হোম অফিস শুরু করেছে; বর্তমানে তাদের কর্মীরা বাসা থেকে কাজ করছেন।

করোনার কারণে অনেক স্টার্টআপ ও ছোট কোম্পানির প্রোডাক্টিভিটি কমে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অ্যাপলয়ি বর্তমানে ২২ জন কর্মীর একটি বাংলাদেশি স্টার্টআপ যাদের তৈরি করা টাইম ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে ৬৬টির বেশি দেশের প্রায় ৬২৫টি কোম্পানি। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান যাদের কর্মী সংখ্যা ৫০ এর নিচে তাদের করোনা ভাইরাসকালীন অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে অ্যাপলয়ি আগামী জুন পর্যন্ত সমস্ত প্রিমিয়াম প্ল্যান ফ্রি দেবে।

অ্যাপলয়ি’র  সিইও শেখ সৌরভ বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অ্যাপলয়ি তৈরি করা হয়েছে। রিমোট ও অফিস উভয় ধরনের কর্মীদের জন্যেই অ্যাপলয়ি প্রযোজ্য। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও অন্যান্য ইন্টারনেট সাইটের উপস্থিতি ইতিপূর্বের তুলনায় কর্মীদের মনঃসংযোগে আরো বেশি বেশি ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এটি কর্মীদের উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করছে। কর্মীদের উপর বোঝা চাপাতে অ্যাপলয়ি তৈরি হয়নি বরং কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণ ও স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করতেই এর জন্ম।’

ফোর্বসের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে তাদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে প্রতিদিনের কর্মঘন্টার প্রায় একঘন্টা সময় নষ্ট করেন। মাসের শেষে তা গিয়ে কর্মীপ্রতি ২৫ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে। অধিকাংশ সময়েই কর্মীরা ফেসবুক ব্রাউজ, ইউটিউব ভিডিও দেখা এমনকি গেমস খেলার মাধ্যমে কর্মঘন্টার সঠিক ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটান। টাইম ট্র্যাকিং ও কর্মী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অ্যাপলয়ি কর্মক্ষেত্রে সময় অপচয় রোধ করবে এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিবে। অ্যাপলয়ি কর্মীদের মনোসংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী জিনিসগুলো থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে ও সময় অপচয় হ্রাস করবে।

অ্যাপলয়ি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার শাফি আলম, গ্রোথ লিড খন্দকার আসিফ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শাফায়েত আহমেদ, অপারেশান হেড আহসান হাবীব মাহফুজ এবং কমিউনিটি হেড আশিকুর রাহমান নয়ন জানান, অ্যাপলয়ি একটি অত্যাধুনিক সফটওয়্যার এবং আমাদের দেশ থেকে এ রকম প্রথম উদ্যোগ। এটি আন্তর্জাতিক মানে তার নিজস্বতা নিয়ে আবির্ভূত হয়ে হাবস্টাফ বা টাইমডক্টর এর মতো আন্তর্জাতিক সফটওয়্যারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারবে। আমরা চাই, অ্যাপলয়ি হাজার হাজার কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই অফার জুন পর্যন্ত চলবে। এ জন্য অ্যাপলয়ি ডটকমের সাপোর্টে যোগাযোগ করতে হবে।
অ্যাপলয়ি প্রিমিয়াম সফটওয়্যারের কিছু ফিচার-

টাইম ট্র্যাকিং: টাইম ট্র্যাকিং ফিচার ব্যবহার করে কর্মীদের সময় কিভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো প্রজেক্টে কত সময় যাচ্ছে, কাজ প্ল্যান করা, প্রজেক্ট ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট, শিডিউল করে দেয়া, ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সম্পন্ন করা যাবে। ম্যানেজাররা সহজেই অনলাইনে কর্মীদের কোনো প্রকল্পে নিয়োগ করতে পারবেন এবং টাইমশিট লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য শক্তিশালী শিডিউলিং তৈরি করা, ছুটির দিনের হিসাব রাখা এবং কর্মী অনুপস্থিতি ব্যবস্থাপনার সুবিধা দেয়।
কর্মী মনিটরিং: এই ফিচারটি সম্পূর্ণ অপশনাল। কিন্তু ফিচারগুলো ব্যবহার করার আগে একজন ম্যানেজারের উচিত তার কর্মীদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে নেয়া। যেন কর্মীদের মনে এমন কোনো ধারণা সৃষ্টি না হয় যে তার কোম্পানি তাদের বিশ্বাস করছে না। মূলত এ ফিচারগুলো একটি স্বচ্ছ ও প্রোডাক্টিভ প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সহায়তা করবে। কর্মীদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নয়।

অন্যান্য: কিবোর্ড ও মাউস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাপলয়ি কর্মীদের অ্যাক্টিভিটি পরিমাপ করে ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি দশ মিনিটে একটি স্ক্রিনশট নেয়। এটি কর্মীরা কি করছেন শুধু তাই দেখতে দেয় না, তারা কোন কোন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছেন তাও স্ট্যাটিস্টিক্যালি প্রদর্শন করে। অ্যাপলয়ি কর্মীদের কাজের ধারা বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যানগত তথ্য উপস্থাপন এবং তিনি কাজের জন্য সময় দিচ্ছেন কিনা সেটি অ্যাক্টিভিটি লেভেল হিসেবে দেখায়। ফলে বিভিন্ন ডাটা থেকে অ্যানালাইসিস করে একজন ম্যানেজার বা উদ্যোক্তা সহজে বুঝতে পারবেন তার কোম্পানির কর্মীরা সময়ের সঠিক ব্যবহার করছে কিনা। আর যদি না করে থাকে তাহলে কোথায় কোথায় সময়ের অপচয় হচ্ছে সেটি তিনি সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন। অফিসের বাইরে কাজ করে এমন কর্মীদের জন্য আছে অ্যাপলয়ির জিপিএস ট্র্যাকিং ফিচার, যা তাদের অবস্থান শনাক্ত করে, ফলে, মাঠকর্মীরা তাদের গন্তব্যে ঠিকমত যাচ্ছেন কিনা তা মনিটর করা যায়।

 

ঢাকা/ফিরোজ


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান

২০২০-০৩-২৮ ৮:৫১:০০ পিএম

২১৫ দিনমজুর পেল ১০ দিনের খাবার

২০২০-০৩-২৮ ৮:৩৮:৪৮ পিএম

ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা

২০২০-০৩-২৮ ৮:৩৪:৩৮ পিএম

গাইবান্ধায় ২ করোনা রোগী শনাক্ত

২০২০-০৩-২৮ ৮:০০:২৪ পিএম