ঘরে মাস্ক পরার পরামর্শ বিজ্ঞানীদের

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৯ ৩:৫৫:৩০ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক | রাইজিংবিডি.কম

নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরে ফেস মাস্ক পরে থাকার অভ্যাস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণে বাধা দিতে পারে। এ কারণে ঘরেও মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এ পদ্ধতি সংক্রমণ কমানোর ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ কার্যকর হিসেবে দেখা গেছে। তবে সংক্রামিত পরিবারের কোনো ব্যক্তির মধ্যে করোনার লক্ষণগুলো বিকাশের আগেই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

বিএমজে গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত এ গবেষণা চীনের বেইজিংয়ের ১২৪টি পরিবারের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে। এসব পরিবারে স্বাস্থ্যবিধি চর্চার প্রেক্ষিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কমপক্ষে একটি নিশ্চিত কেস রয়েছে। গবেষণায় ঘরে ফেস মাস্ক পরার অভ্যাস ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ৭৭ শতাংশ কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মোট সদস্যা সংখ্যা ছিল ৪৪০ জন এবং ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শেষের দিকে পরিবারগুলোতে কোভিড-১৯ রোগের ঘটনা ঘটেছিল। পরিবারের সদস্যরা সংক্রামিত ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশের আগের চার দিন এবং প্রথম লক্ষণ প্রকাশের পর চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় একসঙ্গে ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো সর্বসাধারণের জন্য ঘরে বা বাইরে মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়নি। এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংস্থাটি ভালো মানের প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছে।

চীনের গবেষণায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী সার্স-কোভ-২ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ ঘটনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারে ঘটেছে।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের ফেস মাস্ক পরার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব এবং জীবাণুমুক্তকরণের মতো পদক্ষেপগুলো সংক্রমণ হার মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।

গবেষণার আওতাধীন পরিবারগুলো, যা সাধারণত তিন প্রজন্ম আকারের ছিল, সদস্যা সংখ্যা ২ জন থেকে শুরু করে ৯ জন পর্যন্ত ছিলেন। তবে গড়ে চারজন সদস্য ছিলেন। গবেষকরা ভাইরাসটির সংক্রমণ ঝুঁকি ইনকিউবেশন সময়কালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যা আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণগুলো শুরু হওয়ার পর থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত থাকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে প্রথম সংক্রামিত ব্যক্তি থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ১২৪ পরিবারের মধ্যে ৪১ পরিবারে ঘটেছিল। গবেষণায় দেখা যায়, শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক মিলিয়ে মোট ৭৭ জন এভাবে সংক্রামিত হয়েছিল, যা ২৩ শতাংশ ‘সংক্রমণ হার’ নির্দেশ করে।

আরো দেখে গেছে, মোট ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১৩ শিশু এবং ৯২ জন প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। ১২ শিশুর করোনার হালকা উপসর্গ ছিল এবং এক শিশুর কোনো উপসর্গ ছিল না।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের হালকা উপসর্গ রেকর্ড করা হয়েছিল, বাকিদের বেলায় ১০ জনের মধ্যে একজনের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ ছিল এবং একজন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, এমনকি লোকসংখ্যা বেশি এমন পরিবারগুলোতে ফেস মাস্ক, জীবাণুনাশক, খোলা জানালা এবং কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি ভাইরাস সংক্রমণের কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের সংস্পর্শ এবং পরিবারের কোনো ব্যক্তির করোনার প্রথম লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর বাকি সদস্যেদের মাস্ক পরার বিষয়টি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আর অসুস্থ হয়ে ব্যক্তিটি যদি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তাহলে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকিকে ৪ গুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই টেবিলে খাবার খাওয়া বা একসঙ্গে টিভি দেখার মতো বিষয়গুলো ১৮ গুণ পর্যন্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বেইজিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্ল্যানিং প্রজেক্টের এই গবেষণায় বলা হয়, ‘পারিবারিক সংক্রমণ করোনা মহামারি বৃদ্ধির প্রধান চালক।’

ঘরে কোয়ান্টাইনে রয়েছেন এমন ব্যক্তির পরিবারের জন্য এই গবেষণার ফলাফল সহায়ক হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারের জন্য যারা সংক্রমণের একটি চলমান ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন।

 

ঢাকা/ফিরোজ


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

তৃষাকে শেষবার সতর্ক করলেন মীরা

২০২০-০৭-১৪ ১২:১৫:২১ এএম

বাইশ পেরিয়ে তেইশে গবি 

২০২০-০৭-১৪ ১২:০৮:৫৮ এএম

স্তনকর ও একটি নির্মম প্রতিবাদ

২০২০-০৭-১৩ ১০:১১:৪৪ পিএম

নদী ভাঙনের কবলে পুলিশ বক্স

২০২০-০৭-১৩ ১০:০৬:২৮ পিএম