গেম প্ল্যান জানানোর বিষয়ে বিপরীত মেরুতে কোচ-অধিনায়ক

প্রকাশ: ২০২০-০২-২১ ৪:৪৪:০৮ পিএম
ক্রীড়া প্রতিবেদক | রাইজিংবিডি.কম

বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের অভিযোগ, ‘আমাকে বলে যাচ্ছে টস জিতলে বোলিং নেবে। মাঠে গিয়ে দেখি টস জিতে ব্যাটিং নিচ্ছে।’

পাশাপাশি তার দাবি, ‘ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে। কে কোথায় আসছে না আসছে কিছুই জানানো হয়নি আমাকে। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকেই এমন হচ্ছে, তারপর আফগানিস্তান সিরিজ। পুরো পরিবর্তন হয়ে গেছে দলটা। আমি যা জানতাম তার কিছুই হয়নি।’

জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের হতশ্রী পারফরম্যান্সে রীতিমত বিরক্ত নাজমুল হাসান। দলকে স্বরূপে ফেরাতে নিয়মিত জাতীয় দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করছেন বোর্ড প্রধান। পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমে সরাসরি বলেছেন, ‘আমি আগের দিন জানতে চাই গেম প্ল্যান কি?’

কিন্তু জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ কি বোর্ড প্রধানকে গেম প্ল্যান জানাবে? প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সরাসরি উত্তর দেননি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি বোর্ড প্রধান জানতে চান ম্যাচ পরিকল্পনা কি? তাহলে তার জানাতে কোনো আপত্তি নেই।

ডমিঙ্গো শুক্রবার মিরপুরে বলেছেন, ‘দল নিয়ে বোর্ড প্রধানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ দারুণ। তিনি চান দলটি সত্যিই ভালো করুক। আমার তার সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। শেষ সপ্তাহে ছেলেদের নিয়ে ভালো অনুশীলন কেটেছে আমার।’

‘আমি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুনিনি যে, আমাকে দল নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি দলের বিষয়গুলো কারো সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে। আমি এবং বোর্ড প্রধান দুজনই নিজেদের দল নিয়ে বেশ উৎসাহী। আমাকে এখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। আমি আমার কাজটাই করছি।’ – যোগ করেন ডমিঙ্গো।

কিন্তু ম্যাচের আগে যে পরিকল্পনা হয় তা ম্যাচ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে কন্ডিশন বিবেচনায় টসের পরিকল্পনা পাল্টানোর প্রয়োজন হয়। একাদশেও আনা হয় পরিবর্তন। বাড়তি পেসার, বাড়তি স্পিনার যুক্ত করার প্রয়োজন হয় অনেক সময়। আবার অনেক সময় ব্যাটসম্যান বাড়ানো হয়। বিপর্যয়ে ব্যাটিং অর্ডারেরও পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, বোলিংয়েও করা লাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এসব সিদ্ধান্ত বদলানোর ক্ষমতা রাখেন প্রধান কোচ। কিন্তু সব সময় কি বোর্ড প্রধানকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে ডমিঙ্গোকে? নিজ থেকে হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না? যে সংস্কৃতি শুরু হতে যাচ্ছে তা কি আদর্শ হবে?

এবার ডমিঙ্গো হলেন কৌশলী। মনে করিয়ে দিলেন নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জের কথা, 

‘ভাইয়েরা মনে রাখবেন আমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছি। ওখানেও দল নির্বাচন নিয়ে অনেক বেগ পোহাতে হতো। আমি কিন্তু ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া থেকে আসিনি, যেখানে কাজ করা খুব সহজ এবং আপনি যা চাইবেন তাই করতে পারবেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করা মোটেও সহজ ছিল না। ওখানে দল নির্বাচন কঠিন। ওখানে মানুষের মত ভিন্ন এবং অনেক ইস্যু জড়িয়ে থাকে। ’

‘এটা আমার কাজের অংশ এবং আমাকেই এটা সমাধান করতে হবে। আমি আমার অধিনায়ক, দলকে এখান থেকে বাইরে রাখবো। আমি নিজেই বোর্ড প্রধানের মুখোমুখি হবো। এটা অবশ্যই বড় ভূমিকা কিন্তু এ কাজটা আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় করে এসেছি। অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জ এবং কষ্ট আছে। কিন্তু এটাই আমার কাজের ক্ষেত্র। আমাকে যদি যোগাযোগ করতে বলা হয় আমি স্বস্তি নিয়েই করবো।’

একই প্রশ্ন করা হয়েছিল মুমিনুল হককে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুমিনুল বললেন, ‘এই বিষয়টা উনার (নাজমুল হাসান) কাছে শুনিনি। এই বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন। ’


ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মানবিক পুলিশ

২০২০-০৩-২৯ ৮:৪৯:১৭ পিএম