প্রথম ওয়ানডে অধিনায়কের চোখে অভিষেক ‘ওয়ানডে’

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০১ ২:২২:৫৯ এএম
ক্রীড়া প্রতিবেদক | রাইজিংবিডি.কম

সাদা ধবধবে জার্সি। গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মন তখন উথাল-পাতাল। শ্রীলঙ্কার মোরাতুয়ার মাঠ। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে। অভিষেক ওয়ানডের অধিনায়ক তিনি। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান তখন ভয়ংকর।

সময়ের সেরা অলরাউন্ডার ইমরান খানের দল। জাভেদ মিঁয়াদাদ, ওয়াসিম আকরাম, আব্দুল কাদির, জাকির খানরা তখন ছিলেন নিজেদের চেনারূপে। ওরকম প্রবল শক্তিধর দলের বিপক্ষে অনভিজ্ঞ বাংলাদেশের লড়াইটা ছিল একেবারেই একপেশে। কিন্তু অভিষেক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের করার ছিল সামান্যই।

১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মাঠে নামে বংলাদেশ। আগের বছর সাউথ-ইস্ট এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ নাম লিখায় এশিয়া কাপে। রাইজিংবিডির মুখোমুখিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করলেন অধিনায়ক গাজী আশরাফ।

বাউন্স ঠেকাতে দরকার চেষ্টগার্ড!

পাকিস্তানের বোলারদের সামলাতে হবে। ওরা বাউন্স, শর্ট বল করবে তা আমরা জানতাম। কিন্তু আমাদের কাছে ছিল না চেস্ট গার্ড। আমরা শ্রীলঙ্কায় নেমে প্রথমে সেগুলো কিনলাম। এর আগ পর্যন্ত আমরা যেখানেই খেলেছি কখনো চেষ্টগার্ড পরিনি। আসলে লাগেনি দেখেই হয়তো নিইনি। কিন্তু ইমরান খান, ওয়াসিম আকরামদের জন্য আমাদের সেটা কিনতেই হল।

স্মরণীয় সেই টস

আমি তো জার্সি পরে বসে আছি। এদিক-ওদিক হাঁটছিলাম। ওয়ার্ম আপও শেষ। টস করতে যাব এমন একটা সময় দেখি ইমরান খান ট্র্যাক স্যুট পরে মাঠের বাইরে বের হচ্ছেন। আমাকে ডেকে বলল, ‘টস করতে অতদূর যাওয়ার দরকার কি। এখানেই টস করে ফেলি।’ আমরা তখন ড্রেসিংরুমের কাছে দাঁড়ানো। আমি বুঝছিলাম না উনি সিরিয়াস কিনা। কারণ, ট্র্যাক স্যুট পরে কেউ টস করেছে কিনা আমার জানা ছিল না। তখন আবার টসের সময় আম্পায়াররাও আসতেন না। অধিনায়করা টস করে আম্পায়ারকে বলে আসতেন। আমরাও ড্রেসিংরুমের সামনে, প্রায় বাউন্ডারির দড়িঁর কাছে আমরা টস সেরে ফেলি। পাকিস্তান টস জিতলো। আমাদেরকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো।

ড্রেসিংরুমে অধিনায়কের বার্তা

উইকেট ছিল ভেজা। আগের রাতে হয়েছিল বৃষ্টি। তখন তো মাঠ কভার করা থাকত না। আমরা খুব করে চেয়েছিলেন টস জিতে ফিল্ডিং নিতে। ড্রেসিংরুমে ঢুকে যখন বললাম পাকিস্তান আমাদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে, তখন সবার মন একটু খারাপ হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে আমার সবাইকে বোঝানোর দরকার ছিল ব্যাটিং হোক বা বোলিং আমাদেরকে লড়াই করতে হবে। প্রত্যেকে সেটা বুঝেও গিয়েছিল। তখন পাকিস্তান অনেক ভালো দল। আমরা মাত্রই ক্রিকেট বুঝছি। ওই সময়ে ওদের বিপক্ষে খেলাটা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন।

ম্যাচের পান্ডুলিপি

ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো করতে পারিনি। আসলে ওদের সুইং, বৈচিত্র্যে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারিনি। বল সাঁই-সাঁই করে ভেতরে ঢুকছিল। ব্যাটিং করা ছিল অনেক কঠিন। আমি তিন বলে শূন্য করলাম। ওয়াসিম আকরামের বলে আউট হলাম। আমরা ৯৪ করলাম। আমাদের শহীদ ৩০-৩৫ এর মতো করেছিল (করেছিল ৩৭)।  ওরা ৭ উইকেটেই তো জিতে গেল। আমি রান না পেলে কি হবে বোলিংয়ে উইকেট পেয়েছিলাম। সেটা জাঁভেদ মিয়াদাদের। পার্ট টাইম বল করতাম তখন। স্পিনে আউট করলাম মিয়াদাঁদকে। কাগজে কলমে হয়তো প্রাপ্তি নেই। অভিষেক ওয়ানডে আমরা বিশাল ব্যবধানে হেরেছি। কিন্তু প্রাপ্তি ছিল। আমাদের ভেতরে বিশ্বাস তৈরি হওয়া ছিল ওই ম্যাচের বড় প্রাপ্তি। আমরা পার্থক্য বুঝতে পেরেছিলাম সেটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা সফর

আমরা তো ফাইনাল খেলতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশে চলে আসার কথা। কিন্তু আমাদেরকে ফাইনাল দেখানোর জন্য রেখে দিয়েছিল। আমরা যেন ওই ম্যাচটা দেখে কিছু শিখতে পারি, বুঝতে পারি সেটা মাঠ থেকে দেখানোর চিন্তা করেছিল সংগঠকরা। আমরা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের একটা অনুশীলন সেশনও দেখেছি। ওরা কিভাবে ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নেয় সেটা কাছ থেকে দেখেছি সেবারই। আমাদের জন্য সব কিছুই ছিল রোমাঞ্চকর। প্রত্যেকটি জায়গায় আমরা কিছু না কিছু শিখতে পেরেছি। 

 

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

 

 

 

     


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ভার্চুয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

২০২০-০৫-২৯ ১১:২৪:০৮ পিএম