‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে আমরা ভাগ্যবান ছিলাম’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ৬:২৩:২৭ পিএম
ক্রীড়া ডেস্ক | রাইজিংবিডি.কম

ক্রিকেট বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্ভাগা দুটি দল হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা তো চোকার্স তকমা গায়ে মেখে এখনো ফাইনালিস্টের তকমা গায়ে মাখতে পারেনি। এদিকে নিউ জিল্যান্ড শেষ দুইবার বিশ্বকাপ ছুঁই ছুঁই করে স্বপ্নের ফাইনাল খেলেছে। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ফাইনাল খেলার পথে ত্যাগ স্বীকার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচে প্রোটিয়াদের হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

তামিমের নিয়মিত লাইভ শো এর আজকের আড্ডায় সে ম্যাচের স্মৃতিচারণ করলেন বর্তমান কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তামিমই শুরুতে কেনের কাছে সে ম্যাচ নিয়ে তাঁর অনুভূতি জানতে চান। জয় শেষে ড্রেসিংরুমে কী আবহ ছিল সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

‘লাইভ উইথ তামিম ইকবাল’ শো’য়ের আড্ডার এক পর্যায়ে তামিম কিউই অধিনায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি ২০১৫ এর বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে চাই। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই সেমিফাইনাল ম্যাচ। যে ম্যাচে তোমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করেছো।’

এরপরে আরও যোগ করেন, ‘আমার সাথে কিছুদিন আগে ফাফ ডু প্লেসির সঙ্গে কথা হয়েছে। সে আমাকে বললো, উপমহাদেশের ক্রিকেটাররা হয়ত মাঠেই নিজেদের আবেগ দেখিয়ে ফেলে। কারণ জাতি হিসেবে অনেক আবেগী। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকানরা এমন নয়। কারণ মানসিক দিক থেকে তাঁরা শক্ত মানসিকতার। কিন্তু সেই ম্যাচ শেষে তাদের সবাই অনেকে আবেগী হয়ে গেছে, তারা অনেক কান্না করছিল।’

এরপরে কেনের কাছে জানতে চেয়ে তামিম আরও বলেন, ‘ তবে নিশ্চয়ই তোমাদের ড্রেসিং রুমে উল্লাস চলছিল। আমি তোমার কাছে জানতে চাই, সে ম্যাচ নিয়ে তোমার অনুভূতি কী? আর দলের সবাই ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে কী করছিল।’

কেন উইলিয়ামসন এর উত্তরে বলেন, ‘আসলে এটা অবিশ্বাস্য রকমের অসাধারণ এক ম্যাচ ছিল। তার উপর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। আর তাও আমাদের ঘরের মাঠ। আমরা সে ম্যাচে সমর্থকদের দারুণ সমর্থন পেয়েছিলাম আসলে জয়ের পর পুরো মাঠে অন্যরকম আবহ বিরাজ করছিল।’

এরপরে সেমিফাইনালের সে ম্যাচ নিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ধীরস্থির শুরু করেছিল। এরপরে ফাফ আর এবি তাদের খেলার মোমেন্টাম বদলে দেয়। ইডেন পার্ক (অকল্যান্ডে) মাঠ ছোট হওয়ায় খুব দ্রুত রান তোলা সম্ভব। আর এবি তো হচ্ছে জাত প্রতিভাবান। যখন সে খেলে তখন তাকে আটকানোর কোনো উপায় থাকে না। ওরা খুব ভালো খেলেছে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে, তারা আগে ব্যাটিং করেছে। নইলে এবি একা হাতে ম্যাচ নিয়ে যেতে পারতো।’

‘তারা ভালো ব্যাটিং করেছিল। আমাদের ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ২৯০ (আসলে ২৯৮) এর মতো লক্ষ্য দিয়েছিল। এটা খুবই কঠিন টার্গেট ছিল আমাদের জন্য। তার উপর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। তাদের জয়েরও ভালো সম্ভাবনা ছিল।’

‘তবে আমাদের শুরুর দিকে খুব দ্রুত রান উঠছিল। আমরা সম্ভবত প্রথম ৫০ খুব দ্রুত করেছি। এরপরে কিছু আর্লি উইকেট হারিয়ে ফেলি। তখন কোরি আর ইলিয়টের জুটি ম্যাচটা ধরে রাখে। আর আমাদের জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। দিনশেষে আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।’

৪৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ২৯৮ রানের লক্ষ্য কিউইরা ১ বল বাকী থাকতে তাড়া করে জিতে নেয়। গ্র্যান্ট ইলিয়ট ৭৩ বলে ৮৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে ছয় হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। কেন উইলিয়ামসন সে ম্যাচে বলার মতো কিছুই করতে পারেননি। মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।


ঢাকা/কামরুল


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শামীম জামানের ‘বাবার উপহার’

২০২০-০৫-২৬ ৫:৩৬:৩৬ পিএম

মুশফিকের চোখে নিজের সেরা পাঁচ

২০২০-০৫-২৬ ৫:০৮:০৭ পিএম

রোকেয়ার ঈদ রাঙিয়ে দিলো পুলিশ

২০২০-০৫-২৬ ৪:৪৪:১৬ পিএম