সুযোগ-সুবিধার অভাবে ‘খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে’ চলছে চট্টগ্রাম বিকেএসপি

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ১১:০৫:৫২ এএম
কামরুল ইসলাম ইমন | রাইজিংবিডি.কম

বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক তারকা। যারা দেশের পতাকা তুলে ধরেছেন বিশ্বমঞ্চে।

ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত  ক্রীড়া  অবকাঠামোগত সুবিধাদি  এবং  সঠিক  প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ  ইন্সটিটিউট  অব স্পোর্টস’  (বিআইএস)  প্রতিষ্ঠার  পরিকল্পনা  করে। এরপর ১৯৮৩ সালে যার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ  ক্রীড়া  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান  (বিকেএসপি)। ১৯৮৬ সালের  ১৪ এপ্রিল  প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকেই বিকেএসপি সর্বোচ্চ একাগ্রতার সাথে উচ্চমানের খেলোয়াড় তৈরির কাজ  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাভারে মূল বিকেএসপির বাইরেও পাঁচটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সেগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, খুলনা ও সিলেটে।

ভবিষ্যত অ্যাথলেটদের স্বপ্নের ঠিকানা বিকেএসপি কেমন চলছে? কেমন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। রাইজিংবিডি-র ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উঠে আসবে সব। আজ শেষ পর্বে পড়ুন চট্টগ্রাম বিকেএসপি’র আদ্যোপান্ত।

আরও পড়ুন : বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চান?

সুযোগ সুবিধার বিচারে রাজধানী ঢাকার পরই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অবস্থান। তবে ঢাকা বিকেএসপির মতো চট্টগ্রামের এই ক্রীড়া প্রশিক্ষণ উপকেন্দ্রে নেই সুযোগ সুবিধার তেমন চিহ্ন। বরং অন্যান্য বিকেএসপির তুলনায় বেশ পিছিয়ে বন্দরনগরীর এই বিকেএসপি।

শহরের বুকে মাত্র ৩ একর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে এই ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যার খুব কাছে অবস্থিত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও মহিলা কমপ্লেক্স স্টেডিয়াম। যেখানে নিত্য খেলাধুলার যজ্ঞ লেগেই থাকে। তবে সে দামামা নেই এই বিকেএসপিতে। বরং ক্ষুদ্র পরিসরে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে ‘খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে’ এগিয়ে চলেছে এই বিকেএসপির কার্যক্রম।

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে বিকেএসপির এই আঞ্চলিক কেন্দ্রটি। তবে বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখতে হয়। ২০১৭ সালে শুধুমাত্র ক্রিকেট ডিসিপ্লিন দিয়ে আবার নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম বিকেএসপি। সে থেকে কেবল এগিয়ে যাওয়ার পালা। ক্রিকেট নিয়ে চলার দুই বছর পর ২০১৯ সালে এখানে যুক্ত করা হয় বাস্কেটবল। আর চলতি বছরের শুরুতে যুক্ত করা হয়েছে কাবাডি ও বক্সিং ডিসিপ্লিন।

বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে এখানে সফলতার হাসি হেসেছে প্রশিক্ষণার্থীরা। শুরু থেকে জায়গার স্বল্পতার কারণে কেবলমাত্র অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সভিত্তিক দলে মনোযোগ দেয় চট্টগ্রাম বিকেএসপি। আর তাদের হাত ধরে বিভিন্ন সময় সাফল্যের হাসি হাসে এই আঞ্চলিক কেন্দ্রটি। ক্রিকেট নিয়ে আসার পর ২০১৬ তে এখানকার অনূর্ধ্ব-১৪ দল জাতীয় পর্যায়ে শিরোপার মুখ দেখে। সেই থেকে টানা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

এছাড়াও ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিকেএসপি থেকে প্রায় ৭ জন প্রশিক্ষণার্থী অনূর্ধ্ব-১৫ এর জাতীয় দলে সুযোগ পায়। ২০১৮ সালে এখান থেকে ৯ জনের সুযোগ মিলেছিল অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে। আর ২০১৯ সালে এক ডজন ক্রিকেট প্রশিক্ষণার্থী অনূর্ধ্ব-১৫ এর জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়। নিজেদের এই আঞ্চলিক কেন্দ্রের এসব সফলতা গর্বের সঙ্গে ভাগাভাগি চট্টগ্রাম বিকেএসপির ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক হাবিবুর রহমান।

তবে সাফল্যের গর্বের পাশাপাশি কষ্টের আক্ষেপও আছে এই পরিচালকের কণ্ঠে। সাফল্যের নিয়মিত চিত্র উপহার দিলেও সুযোগ সুবিধা বা এই বিকেএসপির পরিসর বৃদ্ধি করা হয়নি দীর্ঘ সময়েও। অন্যান্য বিকেএসপি যেমন বিশাল জায়গার উপর পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধায় উন্নত পরিবেশ পেয়েছে। এখানে তার ব্যতিক্রম চিত্র। এই বিকেএসপিতে নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, ইনডোরের অভাব মেটানো হচ্ছে জিমনেশিয়ামের মধ্য দিয়ে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ জিমনেশিয়াম তো থেকেও নেই।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘২০১৭ সালে পুনরায় শুরু করার পর থেকে আমরা এখানে অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছি। যেহেতু এখানে জায়গার স্বল্পতা, মাত্র ৩ একর জায়গা। তাই না ক্রিকেট না ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ মাঠ তৈরি করতে পেরেছি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য। যে মাঠটা আছে সেটিও আকারে ছোট। একটা ইনডোর আছে, বলতে আমরা জিমনেশিয়ামে তৈরি করে নিয়েছি। সেখানে নেট বসিয়েছি। এই পুরো বিষয়টা আমরা নিজেরা করতে হয়েছে।’

এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের একাডেমিক পড়ালেখার সুযোগও কেবল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। তাই প্রতিবছর বলতে গেলে নতুন করে শুরু করতে হয় তাদের। যেমন এই সেশনে মোট চারটি ডিসিপ্লিন মিলিয়ে প্রশিক্ষণার্থী মাত্র ৬৫ জন।

হাবিবুর রহমানের ভাষ্যে, ‘এবার ২০২০ সালে যে নতুন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেখানে আমাদের ৬৫ জনের মতো ছাত্র রয়েছে। এদের মধ্যে ২৫ জন ক্রিকেটে আছে। আর ১৬ জন করে বাস্কেটবল ও কাবাডিতে। বাকী ৮ জন বক্সিংয়ে। প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষার জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সুযোগ আছে। এরপরে ক্রিকেটাররা দিনাজপুরে পাড়ি দেয়। আর বাস্কেটবলের যারা আছে তারা ঢাকায় চলে যায়।’

‘এখানে বাচ্চাদের সুযোগ সুবিধা কম। ক্রিকেটে যারা আছে তাদের জন্য একটা কেবল ছোট মাঠ। এছাড়াও আমাদের বানানো ইনডোর আছে। বক্সিং এর জন্য ইনডোর সুবিধা আছে। কাবাডি হচ্ছে আউটফিল্ডে। তবে তাদের জন্য কেনা হয়নি কোনও ম্যাট। আর বাস্কেটবলের জোনে বাস্কেটবল খেলা হচ্ছে। তবে এখানে জায়গা বাড়ানো খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।’

‘চট্টগ্রামের বিকল্প হিসেবে রামুতে গড়া তোলা হয়েছে বিকেএসপির আরেকটা উপকেন্দ্র। কিন্তু সেটা কক্সবাজার জেলায় পড়ছে। এখন এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম থেকে বিকেএসপি সরে যায়। তাহলে কিন্তু আমাদের চট্টগ্রামে বিশাল এক শূন্যতার সৃষ্ট হবে।’

তাই প্রশিক্ষণার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে বিকেএসপির এই উপকেন্দ্রটি রাখার পক্ষে পরিচালক হাবিবুর রহমান। তাঁর জন্য সরকারের সহযোগিতায় আরও ১০ একর জমির আবেদন করেছেন তারা।

এই নিয়ে এই উপ-পরিচালক বলেন, ‘জায়গা পেলে আমরা চট্টগ্রামের এই বিকেএসপিকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপি হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। অন্যান্য বিকেএসপির মতো সুন্দর পরিবেশ দিতে পারবো। আমাদের এখানে পেছনে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারী জমি আছে, তাই এগুলো যদি পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় তবে সব সমস্যার সমাধান হবে। চট্টগ্রামের মেয়র মহোদয়েরও এই নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব আছে। তবে এখনো কোনও প্ল্যানিং দাঁড়ায়নি।’

‘আমরা যদি ওইখান থেকে ১০ একর জায়গা নিতে পারি, আমরা দুইটা ক্রিকেট মাঠ, একটা ফুটবলের টার্ফ, একটা ইনডোর তৈরি করতে পারি। জিমনেশিয়াম সুবিধাও তখন ভালো করা যাবে। সব মিলিয়ে অনেক সুন্দর করে বিকেএসপিকে সাজিয়ে নিতে পারবো। আমরা এজন্য চেষ্টাও করছি।’

আরও পড়ুুন:

সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে খুলনা বিকেএসপির এগিয়ে চলা

সিলেট বিকেএসপিতে ফুটবলের জয়গান

বরিশাল বিকেএসপিতে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর রাজত্ব

দিনাজপুর বিকেএসপি ক্রিকেটের অভয়ারণ্য


ঢাকা/কামরুল/ইয়াসিন


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

মাধবপুরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

২০২০-০৫-২৬ ৫:৫৮:৫৩ পিএম

করোনায় আক্রান্ত ৫৬ লাখ ছাড়িয়ে

২০২০-০৫-২৬ ৫:৪২:৩২ পিএম

শামীম জামানের ‘বাবার উপহার’

২০২০-০৫-২৬ ৫:৩৬:৩৬ পিএম

মুশফিকের চোখে নিজের সেরা পাঁচ

২০২০-০৫-২৬ ৫:০৮:০৭ পিএম