সিলিংয়ে বল ঝুলিয়ে আকবরের নকিং, শরীফুল সাঁতরাচ্ছেন করতোয়ায়

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৫ ৯:৫৯:৫১ পিএম
ক্রীড়া ডেস্ক | রাইজিংবিডি.কম

ফিটনেস উপকরণ নেই। তাই বলে কি থেমে থাকবে ট্রেনিং! মোটেও না?

‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়’ - এমন কথায় বিশ্বাসী আকবর আলী তেমন কিছুই করে যাচ্ছেন। ফিটনেস ধরে রাখতে হাতের সামনে যা পেয়েছেন তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। শুধু নিজেই নয়, উদ্বুদ্ধ করেছেন সতীর্থদের। তাইতো চার দেয়ালে থেকেও আকবর, রাকিবুল, শরীফুল, শামীমদের ফিটনেস ‘আপ টু মার্ক।’

করোনা সঙ্কটে গৃহবন্দি ক্রিকেটাররা। এই সময়ে সবাই নিজের মতো করে ফিট রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপজয়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররাও নিজেদের ক্রিকেটীয় স্কিল ও ফিটনেস ধরে রাখতে চেষ্টার কমতি রাখছেন না। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো ফিটনেস উপকরণ নেই তাদের কাছে। তাতে কি? চোখের সামনে যা আছে তাই দিয়ে চলছে চেষ্টা।

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী হাতুড়ি দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন! এর সঙ্গে ঘরের ফার্নিচার, আঙিনার ইট নিয়ে জুড়ে দিয়েছেন ফিটনেস ট্রেনিংয়ে। অলরাউন্ডার শামীম হাসান ঘরের আঙিনাকে বানিয়ে নিয়েছেন উইকেট। মাশরাফি যেমন চিত্রা নদীর দুকূল ভেঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন, তেমনি পঞ্চগড়ের শরীফুল ইসলাম নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতে করতোয়ায় ঝড় তুলছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটাররা ফিটনেস ধরে রাখার জন্য যেসব উদ্ভাবনী ও অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছেন, সে গল্প তুলে আনছে রাইজিংবিডি।  

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর নিজের ব্যাটিং ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য মোজায় বল ঢুকিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে নিয়মিত নকিং করছেন। নিজের অনুশীলনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আকবর বলেন, ‘আমি বলটাকে একটা মোজার মধ্যে নিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছি। যাতে আমি বলটাকে আঘাত করতে পারি। এটা পুনরায় আমার দিকেই ব্যাক করে। এটা আসলে অনেক পুরনো টেকনিক, তবে অনেক কার্যকরী।’

শুধু তাই নয় নিজেকে ফিট রাখার জন্য ঘরের ফার্নিচার, হাতুড়ি, ইট সবকিছুকে জিমের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছেন অনূর্ধ্ব-১৯ এর এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। রংপুরে নিজের বাড়িতে অবস্থান করা এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি বাড়ির ফার্নিচার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ খুঁজে বের করে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করছি। আমি একটা হাতুড়ি খুঁজে পেয়েছি আমাদের ঘরে। যেটা কিনা পাইল ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত হতো। আমি এটাকে ডাম্বেল হিসেবে ব্যবহার করে থাকি, ওয়েট ট্রেনিংয়ের জন্য। এর পাশাপাশি আমি ইট ভাঙার কাজও করছি। আমি ছাদের উপর একটা লোহার বাড় ঝুলিয়েছি, যেখানে আমি চিন আপের কাজও করে থাকি।’

আকবর বিশ্বাস করেন, নিজের মানসিক ও শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে অভিনব পন্থা খুঁজে নিতে হবে। ‘আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে হবে। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক ভাবে ফিট রাখতে হবে। এই সময় নিজের হাতের কাছে যা আছে, তাই সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

তবে ব্যাটিং অনুশীলনের ক্ষেত্রে আকবরের চেয়েও একধাপ এগিয়ে অলরাউন্ডার শামীম হোসেন। চাঁদপুরে নিজের বাড়ির আঙিনায় সিমেন্ট দিয়ে হাফ পিচ বানিয়ে নিয়েছেন। আর সেখানে নিজের ছোট ভাই ও বন্ধুদের সহায়তায় নিয়মিত ব্যাটিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘বাড়ির কিছু জায়গা পরিষ্কার করে আমি সেখানে সিমেন্ট দিয়ে হাফ পিচ বানিয়েছি। সেখানে আমি আমার ছোট ভাই ও বন্ধুদের বল থ্রো করতে বলি আর আমি ব্যাটিং অনুশীলন করি। এর পাশাপাশি আমি কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও করে থাকি।’

এদিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়সূচক রান নেওয়া রাকিবুল হাসান এই সময়টা নিজের পড়ালেখার কাজে ব্যয় করছেন। এর পাশাপাশি ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছেন নিজেকে ফিট রাখার জন্য। এছাড়া স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ রিচার্ড স্টনিয়ের অনলাইন ক্লাসেও যোগ দিচ্ছেন রাকিবুল।

তিনি বলেন, ‘রিচার্ড ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউব লাইভে এসে সপ্তাহে পাঁচদিন অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। আমরা তার এসব ক্লাসে অংশ নিয়ে নিজেদের এই সময়ে ফিট রাখার কাজ করে যাচ্ছি।’

পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকায় স্টনিয়েরের লাইভ ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না বাংলাদেশের বিশ্বকাপজয়ী পেসার শরীফুল ইসলাম। ইন্টারনেটের গতি নিয়ে শরীফুল রীতিমত বিরক্ত। তবে এই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত দৌড়চ্ছেন এবং করতোয়া নদীতে সাঁতার কাটছেন শরীফুল। এমনকি ইউটিউবে কিছু ভিডিও দেখে ফিটনেস ট্রেনিংয়েরও কাজ করে যাচ্ছেন এই ক্রিকেটার।

শরীফুল বলেন, ‘আমার এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ খুব দুর্বল। তাই আমি লাইভ ক্লাসে যোগ দিতে পারছি না। তবে আমি অনলাইনে ভিডিও দেখে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এর পাশাপাশি এখানকার স্কুল মাঠে নিয়মিত দৌড়চ্ছি। প্রচুর পরিমাণে সাঁতার কাটছি। আমাদের নিজেদের পুকুর আছে সেখানে সাঁতরাচ্ছি, একই সাথে করতোয়া নদীতেও সাঁতার কাটছি নিয়মিত।’

 

তথ্যসূত্র: নিউএজ



ঢাকা/কামরুল


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৬)

২০২০-০৭-০৭ ৭:৫৬:৪৫ এএম