আসামের আদ্যপান্ত

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-৩১ ২:২৪:৪৪ পিএম
গাজী মুনছুর আজিজ | রাইজিংবিডি.কম

গাজী মুনছুর আজিজ: চা, রেশম, পেট্রোলিয়াম এবং জীববৈচিত্রের জন্য আসাম বিখ্যাত। এশীয় হাতির অন্যতম আবাসস্থল ভারতের এই রাজ্য। এছাড়া এই রাজ্যের বিভিন্ন বনে বাঘ, হরিণ, নানা প্রজাতির পাখি সংরক্ষিত আছে। তবে আসাম একশৃঙ্গের গণ্ডারের জন্য বন্যপ্রাণী বা প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে বেশি পরিচিত। ফলে রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে। এছাড়া আসামের চা বিশেষ বিখ্যাত। এই চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া আসামিকা।

এক সময় আসামের নাম ‘কামরূপ’ ছিল। আরও প্রচীনকালে কামরূপ ছিল ‘প্রাগজ্যোতিষ’ নামে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটি হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত। এর অভ্যন্তরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, বরাক উপত্যকা এবং উত্তর কাছাড় পর্বতমালা। উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় রাজ্য দ্বারা আসাম বেষ্টিত এবং আসামসহ প্রতিটি রাজ্যই উত্তরবঙ্গের একটি সংকীর্ণ অংশ দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আসামের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে।

উৎসব আর মেলার ভূমি হিসেবেও আসামের পরিচিতি আছে। ঈদ উৎসবে আসাম হতে পারে বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা।

গুয়াহাটি: আসামের রাজধানী ছাড়াও গুয়াহাটি একটি শিল্পশহর ও নদীবন্দর। এটি আসামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের শুরুর দিকে এটি ছিল কামরূপ রাজ্যের রাজধানী। হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসেবে এখানে প্রাচীন অনেক মন্দির আছে। এর মধ্যে কামাখ্যা ও ঊমানন্দা মন্দির দুটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থলে ১০ম শতকে নির্মিত জনার্দন মন্দির দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। এ মন্দিরে বুদ্ধের একটি চিত্র আছে। ১৯শ শতকে গুয়াহাটি সাময়িকভাবে বার্মার অধীনে ছিল। ১৮২৬ সাল থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ব্রিটিশ শাসনাধীন অসমের রাজধানী ছিল। বর্তমানে এখানে ৮ লাখেরও বেশি লোক বাস করেন।

গুয়াহাটি ও এর আশপাশে নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এসব স্থান একদিকে যেমন ইতিহাস-ঐতিহ্যমণ্ডিত, তেমনি জীববৈচিত্রে ভরপুর। যেমন আসাম স্টেট মিউজিয়াম। গুয়াহাটি শহরের পানবাজারের কাছেই এই জাদুঘর অবস্থিত। আসাম রিসার্স সোসাইটি ১৯৪০ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৫৩ সালে জাদুঘরটি আসাম রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণে নেন। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ সংগ্রহশালা। এখানে প্রচীন কালের পাথরের মূর্তি, কাঠ, ধাতু এবং টেরাকোটার নানা নিদর্শন, লিপি, কারুশিল্প, লোকশিল্প, নানা ধরনের অস্ত্রসহ আসামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা নিদর্শন রয়েছে। জাদুঘরে ১৯৮৫ সালে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা হয়। লাইব্রেরিতে প্রাচীন অনেক শর্টহ্যান্ডের নমুনা সংগ্রহ আছে। জাদুঘরটি খোলা থাকে  গ্রীষ্মকালে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ৪টা এবং শীতকাল অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত। সোমবার বন্ধ থাকে।

 



আসাম স্টেট মিউজিয়ামের পাশেই যুদ্ধ স্মারক উদ্যান। বিশাল একটি দিঘিকে ঘিরেই মূলত এ স্মারক সম্ভার। দিঘির সম্মুখভাগেই আছে যুদ্ধ-স্মারক বিমান ও ট্যাংক। এছাড়া আছে কিছু ভাস্কর্য। দিঘির চারপাশে গাছগাছালি, হাটাচলা ও বসার ব্যবস্থাও আছে।

গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি এ অঞ্চলের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। গুয়াহাটি শহরের জালুকবারী নামক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ বিমানবন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার ও কামাখ্যা রেলস্টেশন থেক ৫ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা আছে এখানে।

তীর্থস্থান হলেও কামাখ্যা মন্দির আসামের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। হিন্দু দেবী কামাখ্যার এই মন্দির আসামের রাজধানী গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত। এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। এ মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দির আছে। এ মন্দিরগুলোতে ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তক, ত্রিপুরাসুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলা- এ দশ দেবীর মন্দিরও আছে। এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এ মন্দির একটি পবিত্র তীর্থ। মন্দিরে চারটি কক্ষ আছে : গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ (যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন ও নাটমন্দির)। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। অন্যগুলোর স্থাপত্য তেজপুরের সূর্যমন্দিরের সমতুল্য। এগুলোতে খাজুরাহো বা অন্যান্য মধ্যভারতীয় মন্দিরের আদলে নির্মিত খোদাইচিত্র দেখা যায়। মন্দিরের চূড়াগুলো মৌচাকের মতো দেখতে। নিম্ন আসামের বহু মন্দিরে এ ধরনের চূড়া দেখা যায়। গর্ভগৃহটি আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা। এখানে কোনো মূর্তি নেই। শুধু একটি পাথরের সরু গর্ত দেখা যায়। গর্ভগৃহটি ছোটো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। সরু খাড়াই সিঁড়ি পেরিয়ে এখানে পৌঁছাতে হয়। ভিতরে ঢালু পাথরের একটি খণ্ড আছে যেটি যোনির আকৃতিবিশিষ্ট। এটিতে প্রায় দশ ইঞ্চি গভীর একটি গর্ত দেখা যায়। একটি ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনের জল বেরিয়ে এ গর্তটি সব সময় ভর্তি রাখে। এ গর্তটিই দেবী কামাখ্যা নামে পূজিত এবং দেবীর পীঠ হিসেবে প্রসিদ্ধ।

কামাখ্যা মন্দির চত্বরের অন্যান্য মন্দিরগুলোতেও একই রকম যোনি-আকৃতিবিশিষ্ট পাথর দেখা যায়, যা ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনের জল দ্বারা পূর্ণ থাকে।

 



বর্তমান মন্দির ভবনটি অহোম রাজাদের রাজত্বকালে নির্মিত। এর মধ্যে প্রাচীন কোচ স্থাপত্যটি সযত্নে রক্ষিত হয়েছে। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি সময় মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে ১৫৬৫ সাল নাগাদ কোচ রাজা চিলরায় মধ্যযুগীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী অনুসারে মন্দিরটি পুনরায় নির্মাণ করেন। এখন যে মৌচাক-আকারের চূড়াটি দেখা যায়, তা নিম্ন আসামের মন্দির স্থাপত্যের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মন্দিরের বাইরে গণেশ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি খোদিত আছে। মন্দিরের তিনটি প্রধান কক্ষ। পশ্চিমের কক্ষটি বৃহৎ ও আয়তাকার। সাধারণ তীর্থযাত্রীরা এটি পূজার জন্য ব্যবহার করেন না। মাঝের কক্ষটি বর্গাকার। এখানে দেবীর একটি ছোটো মূর্তি আছে। এ মূর্তিটি পরবর্তীকালে এখানে স্থাপিত হয়। এ কক্ষের দেয়ালে নারায়ণ, অন্যান্য দেবদেবী ও তৎসম্পর্কিত শিলালেখ খোদিত আছে। মাঝের কক্ষটিই মূল গর্ভগৃহে নিয়ে যায়। এটি গুহার আকৃতিবিশিষ্ট। এখানে কোনো মূর্তি নেই। শুধু যোনি-আকৃতিবিশিষ্ট পাথর ও ভূগর্ভস্থ প্রস্র্রবনটি আছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে অম্বুবাচী মেলার সময় কামাখ্যা দেবীর ঋতুমতী হওয়ার ঘটনাকে উদযাপন করা হয়। এ সময় মূল গর্ভগৃহের প্রস্রবনের জল আয়রন অক্সাইডের প্রভাবে লাল হয়ে থাকে। ফলে এটিকে ঋতুস্রাবের মতো দেখতে হয়।

প্রাচীনকালে কামাখ্যা ছিল খাসি উপজাতির বলিদানের জায়গা। এখনও বলিদান এখানে পূজার অঙ্গ। এখানে অনেক ভক্ত দেবীর উদ্দেশ্যে ছাগল বলি দেন। কালিকা পুরাণ অনুসারে, কামাখ্যায় পূজা করলে সকল ইচ্ছা পূর্ণ হয়। শিবের তরুণী স্ত্রী ও মোক্ষদাত্রী শক্তিই কামাখ্যা নামে পরিচিত। ১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নীলাচল পর্বতে মঙ্গোলরা আক্রমণ করলে প্রথম তান্ত্রিক কামাখ্যা মন্দিরটি ধ্বংস হয়েছিল। দ্বিতীয় তান্ত্রিক মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় মুসলমান আক্রমণের সময়। আসামের অন্যান্য দেবীদের মতো, দেবী কামাখ্যার পূজাতেও আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখা যায়। দেবীকে যেসব নামে পূজা করা হয় তার মধ্যে অনেক স্থানীয় আর্য ও অনার্য দেবদেবীর নাম আছে। যোগিনী তন্ত্র অনুসারে, এ যোগিনী পীঠের ধর্মের উৎস কিরাতদের ধর্ম। বাণীকান্ত কাকতির মতে, গারো উপজাতির মানুষেরা কামাখ্যায় শূকর বলি দিত। এ প্রথা নরনারায়ণ-কর্তৃক নিযুক্ত পুরোহিতদের মধ্যেও দেখা যেত।

কামাখ্যার পূজা বামাচার ও দক্ষিণাচার উভয় মতেই হয়। সাধারণত ফুল দিয়েই পূজা দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে পশুবলি হয়। স্ত্রীপশু বলি সাধারণত নিষিদ্ধ হলেও, বহু পশুবলির ক্ষেত্রে এ নিয়মে ছাড় দেয়া হয়।

তন্ত্রসাধনার কেন্দ্র হওয়ায় বার্ষিক অম্বুবাচী মেলা অনুষ্ঠানে এখানে প্রচুর মানুষ আসেন। এছাড়া বার্ষিক মনসা পূজাও মহাসমারোহে আয়োজিত হয়, দুর্গাপূজা কামাক্ষ্যা মন্দিরের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব।

 



কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক আসামের গোলাঘাট এবং নাগাওন জেলায় অবস্থিত। এই বন একশৃঙ্গী গণ্ডারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এ বন বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃত। গুয়াহাটি থেকে ২১৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। আসাম সরকার ও স্থানীয় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংস্থা পরিচালিত ২০১৫ সালের মার্চ মাসের গণনা অনুযায়ী কাজিরাঙা বনে গণ্ডারের সংখ্যা ২ হাজার ৪০১টি। এছাড়া এ বনে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত মিলে বাঘের সংখ্যা ২৫১টি। বিশ্বের অন্য সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে এ বনেই বাঘের সর্বোচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। এশীয় হাতীর অভয়ারণ্যের জন্য এ বন বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া বনে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এরমধ্যে বিশ্বের অনেক বিপন্ন বা মহাবিপন্ন পাখিও আছে।

মানস ন্যাশনাল পার্ক ইউনেস্কো কতৃক ১৯৮৫ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই বনটিও বাঘ, হাতি, বন্য মোষ, ভোঁদর, হরিণ, কচ্ছপ, শক্ত লোমযুক্ত খরগোশ, গোল্ডেন লেঙগুর ও বেঁটে বরা, পাখিসহ ইত্যাদি প্রাণীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ৫০০ বর্গ কিলোমিটারের এই বনে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি, ৫৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

ওরাং রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক গুয়াহাটি থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে। নামেরি ন্যাশনাল পার্ক আসামের তেজপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। ২১২ বর্গ মাইলের এ বনে ৩০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। দিবরু-সাইখোয়া ন্যাশনাল পার্ক আসামের তিনসুখিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে।  এর আয়তন ৪২৫ বর্গমাইল। নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এ বনের অন্যতম আকর্ষণ।

হাজো অঞ্চলটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম- তিন ধর্মের জন্যই একটি প্রাচীন তীর্থযাত্রা কেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে কামরূপ জেলার গুয়াহাটি শহর থেকে ২৪ কিমি দূরে এর অবস্থান। এখানে প্রচীন আমলে নির্মিত মন্দির আছে, আবার মসজিদও আছে। এখানকার মসজিদ মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ দ্বারা নির্মিত হয়।

যেভাবে যাবেন: আসাম যাওয়ার জন্য মেঘালয়ের ডাউকি বর্ডার সহজ মাধ্যম। কারণ কলকাতা থেকে আসাম অনেক দূর। অবশ্য কলকাতা থেকে গুয়াহাটি বিমানে গেলে সহজ মাধ্যম। তবে এতে খরচ বেশি। সিলেটের তামাবিল বর্ডার পার হলেই ডাউকি বর্ডার। ডাউকি  থেকে ট্যাক্সি পাওয়া যায় শিলংয়ের। ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপিতে এই ট্যাক্সিতে ৪ জন শিলং যেতে পারবেন। শিলংয়ের পুলিশ বাজার থেকে ট্যাক্সি বা সমু জিপ পাবেন গুয়াহাটি যাওয়ার জন্য। ভাড়া ট্যাক্সিতে ১৫০ রুপি আর সমু বা জিপে ৮০ রুপি প্রতিজন।

 



থাকা-খাওয়া : গুয়াহাটির পল্টনবাজার ও রেলস্টশনের আশপাশে অনেক হোটেল আছে। ভাড়া সিঙ্গেল রুম ৭০০ থেকে ২ হাজার রুপি। খাওয়ার জন্যও পল্টনবাজার ও রেলস্টেশন এলাকায় অনেক হোটেল পাবেন। ১০০ থেকে ৩০০ রুপিতে ভাত-মাছ-মাংস-রুটি সবই পাবেন। একই দামে খাবার পাবেন দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশে থাকা হোটেল গুলোতেও। আসামের পল্টনবাজার বা রেলস্টশন থেকে কামাখ্যা মন্দির যাওয়ার জন্য লোকাল বাস পাবেন। এছাড়া লোকাল বাসে আসাম স্টেট মিউজিয়াম বা যুদ্ধ স্মারক যেতে পারবেন। চাইলে রেলস্টেশন এলাকা থেকেই জিপ বা ট্যাক্সি ভাড়া করে যেতে পারবেন কাজিরাঙাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকায়। এছাড়া বেড়ানোর জন্য আসাম ট্যুরিজমের সঙ্গে যোগযোগ করতে পারেন। তাদের মাধ্যমেও এসব স্থানে যেতে পারবেন। হোটেলে থাকার জন্য পাসপোর্টের ফটোকপি ও ছবির প্রয়োজন হবে। ডলার ভাঙ্গানোর জন্য শিলংয়ের পুলিশ বাজার মানি এক্সচেঞ্জ আছে।

আসাম যেতে চাইলে ভিসার আবেদনে ডাউকি বর্ডার উল্লেখ করুন (যদি সড়কপথে তামাবিল হয়ে যেতে চান)। যাওয়ার আগে সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিয়ে নিন। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, এনওসিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একাধিক ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। কারণ তামাবিল বর্ডারে কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারে। এছাড়া হোটেল ভাড়াসহ নানা কাজেও লাগতে পারে। টাকা বা ভারতীয় রুপি না নিয়ে সঙ্গে ডলার নেয়াই ভালো। বর্ডারে সঙ্গে নেওয়া ডলার উল্লেখ করতে হয়। ঢাকা থেকে রাতের বাসে বা ট্রেনে সিলেট গিয়ে সেখান থেকে লোকাল বাসে আসতে পারবেন তামাবিল বর্ডার। সকালেই বর্ডারে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কার্যক্রম শুরু হয়।

এছাড়া কমলাপুর থেকে শিলংয়ের উদ্দেশে বিআরটিসি-শ্যামলী বাস ছাড়ে। এ বাস বৃহস্পতিবার রাতে রওনা দিয়ে শুক্রবার দুপুরের আগে পৌঁছে শিলং। সেখান থেকে আবার সোমবার সকালে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশে। যোগাযোগ করতে পারেন কমলাপুরের বিআরটিসি-শ্যামলী বাস সার্ভিস কাউন্টারে।

এছাড়া কলকাতা থেকে বিমানে গুয়াহাটি যেতে পারবেন। আর কলকাতা হয়ে যেতে চাইল বেনাপল বর্ডার ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, গুয়াহাটি শহরের অধিকাংশ হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের থাকতে দেয় না। অবশ্য অন্য এলাকায় থাকতে পারবেন।

ছবি : লেখক



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৯/তারা

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সবজির ঝুড়িতে ইয়াবা, আটক ২

২০১৯-০৮-২০ ৯:৫৩:০৮ পিএম

প্রথম ম্যাচে হারল নারী হকি দল

২০১৯-০৮-২০ ৯:১৪:০৭ পিএম

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

২০১৯-০৮-২০ ৮:৫০:০৮ পিএম