ভয় কাটিয়ে ঘুরে আসুন করমজল

প্রকাশ: ২০২০-০১-১১ ৫:২০:৫১ পিএম
খায়রুল বাশার আশিক | রাইজিংবিডি.কম

অনেকদিন ধরে সুন্দরবন ভ্রমণের ইচ্ছে ছিল। তবে যেখানে হিংস্র প্রাণির আক্রমণের আশঙ্কা নেই, আমরা তেমন জায়গা নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। জানতে পারলাম, নিরাপত্তার দিক থেকে করমজল ভ্রমণের জন্য ভালো।

ভয় ও সংশয় কাটিয়ে আমরা রওনা হলাম আট সদস্যের একটি ভ্রমণ দল। যাত্রা শুরু হলো কনকনে শীতের সকালে। নানাভাবে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ঘেঁটে আমরা আগেই জেনে-বুঝে নিলাম করমজল সম্পর্কে।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন করমজল একটি পর্যটন কেন্দ্র। খুলনা জেলার দাকোপা উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নে করমজলের অবস্থান। পশুর নদী তীরের প্রাকৃতিক বন ঘেরা ছায়া সুনীবিড় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ দেখে চোখ জুড়ায় পর্যটকদের। ভয়মুক্ত প্রাকৃতিক বন আর উন্নত পর্যটন সুবিধা থাকার কারণে করমজল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে সরকারি সহায়তায় বন-বনানী সমৃদ্ধ দ্বীপটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

সহজে পৌঁছতে আমরা মংলা হয়ে করমজল কেন্দ্রে যাওয়ার সোজা পথ বেছে নিলাম। মংলা থেকে নদী পথে করমজল যেতে হবে। যে কারণে মংলা থেকে পর্যটকবাহী বাহারি রঙে সাজানো একটি জল তরণীর সফরঙ্গী হলাম আমরা। পশুর নদীর বুকে চিড়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের জলযান। শান্ত পশুর নদীতে দেখা মেলে নদীবিধৌত জনপদের অপরূপ চিত্র। মালবাহী জাহাজের শ্রমিকদের ব্যস্ততম কর্মযজ্ঞ, জেলে, বনজীবী, বাওয়ালীদের নৌকা দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছে গেলাম করমজল জেটিতে।

ঘড়ির কাটায় যখন সকাল ১১ টা ৩০ মিনিট। সবুজ বন থেকে পাখির কিচির-মিচির ডাক কানে আসতেই মন ভরে গেল! পর্যটকরা অনুমতি ছাড়াই এখানে যে কোনো সময় ভ্রমণে আসতে পারেন। ঘাটের সীমানা ছাড়িয়ে টিকেট কেটে প্রবেশ করলাম করমজল বনকেন্দ্রে। ঢুকেই চোখে পরল মাটিতে শোয়ানো সুন্দরবনের একটি মানচত্রি। পর্যটকরা সুন্দরবন সম্পর্কে জ্ঞান ও ভ্রমণ ধারণা অর্জনের জন্য এই মানচিত্র রাখা হয়েছে।

করমজল গেলে চোখে পড়বে চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, হরেক প্রজাতির পাখি, কাঠবিড়ালীসহ হরেক প্রাণি। মৌমাছির শত শত মৌচাক চোখে পড়বে ফুড ট্রেইলে হাঁটার পথে। নিরাপদে বনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঘুরে দেখার প্রয়োজনে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় কিলোমিটার লম্বা একটি কাঠের ট্রেইল। ট্রেইলটির নাম মাঙ্কি ট্রেইল। পথজুড়ে দেখা মিলবে এখানকার বাসিন্দা রেসাস বানরের। বাদাম, কলা ইত্যাদি খাবার হাতে নিয়ে বানরগুলোকে লোভ দেখালে ওরা কাছে এসে মানুষের হাত থেকে এগুলো লুফে নেয়।

উপর থেকে সমগ্র বনের দৃশ্য অবলোকনের জন্য ৪৫ ফুট উঁচু একটি টাওয়ার রয়েছে করমজলে। প্রবেশপথের নিকটেই চিড়িয়াখানার আদলে খাঁচাঘেরা জায়গায় রাখা হয়েছে ছোট-বড় অনেকগুলো হরিণ। সরকার পরিচালিত বাংলাদেশের একমাত্র লবণ পানির কুমির ও বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। এখানে রয়েছে রোমিও, জুলিয়েট ও পিলপিল নামে ৩টি বড় কুমির। পাশাপাশি একাধিক চৌবাচ্চায় ২০০-৩০০টি বিভিন্ন আকারের কুমিরের বাচ্চা দেখা যাবে। দৈর্ঘে ২ মিটার লম্বা হলেই কুমিরের বাচ্চাগুলোকে নদীর জলে অবমুক্ত করা হয়।

রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে বাগেরহাট ও মংলার বাস ছাড়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়। বাসে যেতে হবে মংলা পর্যন্ত। মংলা বন্দর থেকে আট কিলোমিটার দূরেই করমজল। এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে হবে। এছাড়া খুলনা থেকে নদীপথেও যাওয়া যাবে। নদীপথে খুলনা থেকে করমজলের দুরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। খুলনার দাকোপ উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিমি দূরত্ব। মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা, রূপসা থেকেও করমজল যাওয়া যায়।

খুলনা ও মংলায় রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আবাসিক হোটেল। এছাড়াও করমজলের আশেপাশের টুরিস্ট পয়েন্টগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু রেস্ট হাউজ।  সুতরাং রাতযাপনের কোনো সমস্যা হবে না।


ঢাকা/তারা


     



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

‘কোচ হিসেবে পন্টিং ছিলো জাদুকর’

২০২০-০৪-০৪ ৫:০৬:৪৩ পিএম

দুঃসময়ে মানুষের পাশে শিপলু

২০২০-০৪-০৪ ৪:৪১:৩৮ পিএম

করোনা নিয়ে গাইলেন জামিল (ভিডিও)

২০২০-০৪-০৪ ৪:০৯:১০ পিএম