ক্রিকেট বলেই এমন সমর্থন সম্ভব...

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৪ ৫:৩০:১২ পিএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক, লন্ডন থেকে:  মাঠে খেলছিল ভারত-ইংল্যান্ড, বাইরে ভারতের জন্য গলা ফাটাচ্ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সমর্থকরা। এজবাস্টনে সেদিন ভারতের জয়ের প্রার্থনা করছিল এশিয়ার অন্য তিন জায়ান্ট। ভারত জিতলে সেমিফাইনালের আশা টিকে থাকত এই তিন দলের।

কিন্তু টিম ইন্ডিয়া হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হেরে বসে। দুই ম্যাচ হাতে রেখে শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেদিনই। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শেষ চারের আশা টিকে ছিল কঠিন সমীকরণের ওপর। কিন্তু সেমিতে যেতে পারেনি কেউই।

 

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিতে যেতে না পারলেও সেদিন ক্রিকেটের জয় হয়েছিল। মাশরাফি যেমন বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটে এই প্রথম দেখলাম যে সব এশিয়ার মানুষ একসাথে হয়েছে। চমৎকার। পেশাদারিত্বের এ যুগে সবাইকে একসাথে করা কঠিন। এটা ক্রিকেটের দ্বারা সম্ভব হয়েছে।’

সেদিনের পর আজ লর্ডসের ফাইনালে এশিয়ার চার জায়ান্ট মিলিত হয়েছে এক সুঁতোয়।  ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের মেগা ফাইনালে এশিয়ার সমর্থকরা গলা ফাটাচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের জন্য।

ঢাকার বাসিন্দা আজিজুল ইংল্যান্ডে এসেছেন ফাইনাল দেখতে। লর্ডসের আশেপাশে হন্য হয়ে টিকিট খুঁজছেন। গায়ে বাংলাদেশের জার্সি। গলায় ইংল্যান্ডের মাফলার। কথায় কথায় বললেন, ‘খুব খারাপ লাগছে বাংলাদেশ নাই। তাই বাংলাদেশের জার্সি পরেই মাঠে এসেছি।’

পাকিস্তানি দুই সমর্থক জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এসেছেন লর্ডসে। মুখে ইংল্যান্ডের পতাকা আঁকা। তাদের সমর্থন পাচ্ছেন মরগান, বাটলাররা। কেন? ‘আমরা ইংল্যান্ডে আছি বহুদিন। এটা এখন দ্বিতীয় হোম। তাই সমর্থন না করার কারণ দেখি না।’

 

ভারতীয় এক সমর্থক এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গায়ের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। তাতে লেখা, রোড টু ফাইনাল ইন্ডিয়া! নাহ ইন্ডিয়া কেটে ইংল্যান্ড লেখা। ’ নিউজিল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য মন খারাপই হচ্ছে। লর্ডসের ৩০ হাজার দর্শকের অধিকাংশ ইংল্যান্ডের। নিউজিল্যান্ড ফাইনালে উঠবে কি উঠবে না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিল তাদের সমর্থকরাও। আগে ভাগে টিকিট না কেনায় ফাইনালের টিকিট তারা পায়নি। তাইতো স্টেডিয়ামের আশে পাশে তাদের টিকিট কেনার আকুল আবেদন।

স্যুট-বুট পরে সেন্ট উডস স্টেশনের সামনে এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে এমন প্ল্যাকার্ড নিয়ে, ‘একটি টিকিট চাই, আমি আসল কিউই ফ্যান’।

ক্রিকেট বলেই এমন সমর্থন সম্ভব। বরাবরের মতো ক্রিকেটের তীর্থে ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উন্মাদনা, উত্তেজনা। আর বিশ্বকাপের ফাইনালে উৎসব হবে না, তা কি করে হয়! স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে দর্শকদের প্রাণঢালা উচ্ছ্বাস। আয়োজকরাও ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে দর্শকদের মাতিয়ে রাখছে।

 

৭০’র দশকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শামীম হাসান রুমি। চারটি বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছেন তিনি। ক্রিকেটের টানে এবারও চলে এসেছেন লন্ডনে।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেই বলে তার আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ তার ভিন্ন জায়গায়, ‘আমাদের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হারা উচিত হয়নি। এমন সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে! আর রোহিতের ক্যাচটি। আমাদের মোমেন্টামই তো নষ্ট করে দিয়েছিল।’

সরল বিশ্বাস বলে কথা আছে। শামীম হাসানরা সরল বিশ্বাসে বিশ্বাস করেন লর্ডসের ফাইনাল খেলার সামর্থ্য ছিল বাংলাদেশেরও। কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতায় মাশরাফি, তামিমরা, মুশফিকরা তা পারেনি।

 

রাইজিংবিডি/লন্ডন/১৩ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/পরাগ


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

নিষেধাজ্ঞা কমল চেলসির

২০১৯-১২-০৬ ৭:৫০:৩০ পিএম

অবৈধ পথে দেশে ঢুকে ৩ জন কারাগারে

২০১৯-১২-০৬ ৬:৪২:৩৪ পিএম

চাকরিতে বহাল দুই পুলিশ কর্মকর্তা

২০১৯-১২-০৬ ৬:৪০:১৫ পিএম

আগুনে শেষ দুই হাজার মুরগি

২০১৯-১২-০৬ ৬:৩৯:৪৮ পিএম