১৫৮৮ দিনের লড়াই, ফলাফল বিশ্বকাপ ট্রফি

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৫ ৫:১১:৩১ পিএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

লন্ডন থেকে ইয়াসিন হাসান : সেদিন রাতে অ্যাডিলেডে ঝড় বয়েছিল কিনা জানা নেই। তবে ইংল্যান্ড দলের ওপর বয়ে গিয়েছিল টর্নেডো!

বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। হারের যন্ত্রণা তিল তিল করে কষ্ট বাড়াচ্ছিল মরগান, বাটলাদের। অ্যাডিলেডের সেই হার ইংল্যান্ডের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।  নির্ঘুম রাত কাটানোর পর নতুন ভোরে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংলিশরা।

মিশন-ওয়ার্ল্ড কাপ-২০১৯। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ, যেকোনো মূল্যে শিরোপা জিততেই হবে। লর্ডসের ব্যালকনিতে উঁচিয়ে ধরতে হবে সোনালী ট্রফিটি। যেমন কথা তেমন কাজ। চার বছরের রোডম্যাপ তৈরি করে ইসিবি। নেওয়া হয় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। শুরু হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। অধিনায়ক এউয়ন মরগ্যানকে দেওয়া হয় পূর্ণ স্বাধীনতা। খেলোয়াড়রাও হয়ে উঠেন প্রাণবন্ত, উদ্যমী।

শুরু হয় মাঠের ক্রিকেট। উত্থান-পতন দিয়ে চলে সফর। কখনো সাফল্য দুহাত ভরে চলে আসে। আবার কখনো ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ পেতে হয়।  এসময়ে অনেক রেকর্ড নিজেরা গড়েছেন, অনেক সময় রেকর্ড হয়েছে তাদের বিপক্ষে। এভাবেই এক বছর, দুই বছর করে পেরিয়ে যায় চার বছর।  চলে আসে ‘বার্ষিক পরীক্ষা’। বিশ্বকাপের আগে প্রত্যেক দলের সম্মান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।  বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ায়ও বলে দেয়, ইংল্যান্ড ফেবারিট।  ভারতের নম্বর ওয়ান ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ডকে বলে দেয় আল্টিমেট চ্যাম্পিয়ন।  মাশরাফি বলে দেয়, ইংল্যান্ডের সুযোগ সবথেকে বেশি।

ফেবারিটরা তাদের যাত্রা শুরু করে দুর্দান্ত গতিতে।  দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দেয় ওভালে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোঁচট।  আনপ্রেডিকটেবল পাকিস্তান আটকে দেয় মরগানদের।  এরপর বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে অলআউট ক্রিকেট তাদের।  প্রতিপক্ষ কিছু বুঝে উঠার আগেই ম্যাচ নিজেদের কবজায় নিয়ে নেন রুট, বেয়ারস্টো, স্টোকসরা।  একের পর এক জয়ে আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি পেয়েছিল দল। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন।

শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সবথেকে আপসেটের জন্ম দেয়। এরপর অসি দাপটে দাঁড়াতে পারেনি ইংলিশরা।  টানা দুই হারে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল।  সেখান থেকে স্বদর্পে ফিরে আসে ইংল্যান্ড।  ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পেয়ে যায় সেমিফাইনালের টিকিট।  শেষ চারের লড়াইয়ে এবার আর অস্ট্রেলিয়া পেরে উঠেনি।  ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নিয়ে বিদায় করে দেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

লর্ডসে ঐতিহাসিক ফাইনাল।  প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।  ক্রিকেট বিশ্ব কী ম্যাচটাই না উপভোগ করল ক্রিকেটের তীর্থে।  দুই দলের ৫০ ওভারের আসল লড়াই টাই।  নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে ইংল্যান্ড করে ২৪১।  সুপার ওভারে ইংল্যান্ড আগে ব্যাটিং করে তোলে ১৫ রান।  নিউজিল্যান্ড অনেক লড়াই করেও ১৫ এর বেশি করতে পারে না।  আবার টাই।  কিন্তু আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার টাই হলে হিসাব আসবে বাউন্ডারি সংখ্যা। সেখানে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের বাউন্ডারির ব্যবধান ৯টি। তাতেই শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের হাতে।

২০১৫ থেকে ২০১৯।  অস্ট্রেলিয়া থেকে ইংল্যান্ড।  অ্যাডিলেড থেকে লর্ডস।  মাঝে ১০ হাজার মাইলের দূরত্ব।  চার বছরে দিনের ব্যবধান ১৫৮৮।  সময়ের ব্যবধান ৩৮, ১১২ ঘন্টা।  এ সময়ে মরগান, বাটলার, ওকসদের মাথায় ঘুরেছে শুধু বিশ্বকাপ।  দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল শেষমেশ ভোগ করতে পারল ইংল্যান্ড।  ঘুচল শিরোপার আক্ষেপ।  ১৯৭৫ সালে তাদের ঘরে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ।  ৪৪ বছর, ১১ আসর পর ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের ঘরে গেল অরাধ্য সেই সোনালী ট্রফিটি।  এ যেন ট্রফিরই আক্ষেপ, এতো বছর খুঁজে নেয়নি তার আপন ঠিকানা।


রাইজিংবিডি/লন্ডন/১৫ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/ আমিনুল


   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবৈধ পথে দেশে ঢুকে ৩ জন কারাগারে

২০১৯-১২-০৬ ৬:৪২:৩৪ পিএম

চাকরিতে বহাল দুই পুলিশ কর্মকর্তা

২০১৯-১২-০৬ ৬:৪০:১৫ পিএম

আগুনে শেষ দুই হাজার মুরগি

২০১৯-১২-০৬ ৬:৩৯:৪৮ পিএম